কলমাকান্দায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে, আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা
কলমাকান্দায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে, বন্যার শঙ্কা

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় টানা চারদিনের ভারি বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাওড়ের পাকা বোরো ধান রক্ষায় কৃষকরা তড়িঘড়ি করে ধান কাটায় নেমেছেন।

উব্দাখালী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে

উপজেলার প্রধান উব্দাখালী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে মহাদেও, গনেশ্বরী, মঙ্গেলশ্বীসহ ছোট-বড় সব নদীর পানিও বেড়েছে। ইতোমধ্যে মেদী, তেলেঙ্গাসহ কয়েকটি বিলে পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে উব্দাখালী নদীর ডাকবাংলো পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ১৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

কৃষকদের দুর্ভোগ

কৃষকেরা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওড়ের প্রায় ৩০ শতাংশ বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। আরও অন্তত ২০ শতাংশ জমির ধান ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক জায়গায় ধান পুরোপুরি না পাকায় কাঁচাপাকা অবস্থাতেই কাটতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো সবকিছুতেই ভোগান্তি বাড়ছে। হাওড়ে পানি জমে থাকায় অনেক স্থানে কম্বাইন্ড হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না, আবার শ্রমিক সংকটও প্রকট। রোদ না থাকায় কাটা ধান শুকানোও সম্ভব হচ্ছে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সোনাডুবি হাওড়পারের মন্তলা গ্রামের কৃষক আবুল মিয়া (৪৫) বলেন, যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, পানি বাড়ছে আর বজ্রপাত হচ্ছে। হাওড়ে যেতে ভয় লাগে। তবুও ঝুঁকি নিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছি।

কৃষি বিভাগের তথ্য

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে হাওড়াঞ্চলে রয়েছে ৪ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমি। বুধবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৪৫ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। তবে কৃষকদের দাবি, বাস্তবে কাটা হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপজেলায় ৬৫টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার থাকলেও হাওড়ে পানি থাকায় অনেক জায়গায় সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫টি হারভেস্টার মাঠে কাজ করছে, তবে জ্বালানি সংকটে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি হাওড় ও বিলে পানি ঢুকেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং হারভেস্টার ব্যবহারে সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে শ্রমিক সংকট রয়েছে।

প্রশাসনের প্রস্তুতি

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, হাওড়ের ধান কাটা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি, যাতে দ্রুত ধান কাটা শেষ করা যায়। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কলমাকান্দার উব্দাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ১৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের চেরাপুঞ্জি, সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় পানি আরও বাড়তে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে এখনো সব বেড়িবাঁধ অক্ষত রয়েছে।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, কৃষকরা যাতে নির্বিঘ্নে ফসল কাটতে পারেন সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাশাপাশি আমরা বাঁধের পিআইসি কমিটির সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের সর্তক থাকতে বলেছি। আমাদের ইউএনওরা মাঠে আছেন। তাদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যেখানে জিও ব্যাগ ফেলার দরকার, সেখানে তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।