পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক এমপি ও পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের তিনটি মামলা
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মহিউদ্দিন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম এবং তাদের ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আরিফ হোসেন ও মো. মনিরুল ইসলাম জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আলাদা তিনটি মামলা দায়ের করেন।
মহিউদ্দিন মহারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, মহিউদ্দিন মহারাজের নামে ৫১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার ৬৩১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া তিনি দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে ৫৯ কোটি ৭২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭৩ টাকা ব্যাংকে জমা রেখেছেন। ওই অর্থ থেকে ৫৯ কোটি ২৯ লাখ ৪৮ হাজার ৬৯২ টাকা স্থানান্তর, ব্যাংক সঞ্চয়, ব্যবসায় মূলধন, কোম্পানির শেয়ার, গাড়ি, জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনার মাধ্যমে তিনি মানি লন্ডারিং করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মহিউদ্দিন তার অবৈধ সম্পদকে বৈধ দেখানোর জন্য নিজের স্ত্রী ও ছাত্র ছেলেকে ব্যবসায়ী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
স্ত্রী উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ
উম্মে কুলসুমের নামে ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য মিলেছে, যার বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি। এছাড়া ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কুলসুম অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ৬ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা অর্জন করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে দুদক আইনে মামলা করা হয়েছে।
ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে অভিযোগ
মহিউদ্দিনের ছেলে ইফতি ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও ২০২২-২০২৩ থেকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে তার নামে জমি, দোকান, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ এবং পরিবারের ব্যয়সহ শিক্ষাগত ব্যয় মিলিয়ে মোট ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার সম্পদ আছে। তবে তার বৈধ আয় মাত্র এক কোটি ৫১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। তার অবৈধ সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৯৫ লাখ ৫৩ হাজার ১৯২ টাকা।
এজাহারে আরও বলা হয়, ইফতির কোনো নিজস্ব আয় ছিল না। তার সম্পদ মূলত তার বাবার দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে অর্জিত এবং অবৈধ অর্থ লুকানোর উদ্দেশ্যে ইফতির নামে এগুলো করা হয়। এজন্য মহিউদ্দিন ও ইফতির বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এবং দণ্ডবিধির ধারায় মামলা করা হয়েছে।
আদালতের আদেশ ও অতীত মামলা
এর আগে পিরোজপুর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের আদেশে মহিউদ্দিন, তার স্ত্রী ও ছেলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, মহিউদ্দিন পরিবারের নামের আটটি লাইসেন্সের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার পর কাজ সম্পন্ন না করে সরকারের প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় আগে তাদের বিরুদ্ধে আটটি মামলা করেছে দুদক।
