সাতক্ষীরায় ফ্যামিলি কার্ডের নামে প্রতারণা: ৫২ নারীর এনআইডি ও ছবি সংগ্রহ, অভিযুক্ত আটক
ফ্যামিলি কার্ডের নামে প্রতারণা, ৫২ নারীর এনআইডি সংগ্রহ

সাতক্ষীরায় ফ্যামিলি কার্ডের নামে প্রতারণার অভিযোগ

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় টাকার বিনিময়ে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে অর্ধশতাধিক নারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ছবি সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ ও উদ্ধারকৃত নথি

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মিলন হোসেন (৪৫), যিনি কেরালকাতা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় বিএনপি নেতারা কয়েকজন নারীর কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে এনআইডি ও ছবি সংগ্রহের অভিযোগ পেয়ে তাঁর বাড়ি যান। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মিলন হোসেন বিষয়টি স্বীকার করেন এবং তাঁর কাছ থেকে ৫২ নারীর ছবিসহ এনআইডির ফটোকপি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় নারীদের বক্তব্য

কেরালকাতা পূর্বপাড়া গ্রামের রহিমা খাতুন বলেন, মিলন হোসেন তাঁদের বাড়ি গিয়ে খুব শিগগিরই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে বলেন, ‘এখনই তালিকাভুক্ত না হলে পরে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না।’ যাঁরা অন্তর্ভুক্ত হতে চান, তাঁদের প্রত্যেককে আইডি কার্ডের ফটোকপি, সদ্য তোলা এক কপি ছবি ও ১০০ টাকা দেওয়ার কথা বলেন। তাঁর কথামতো এলাকার অনেকেই মিলনকে টাকা, ছবি ও আইডি কার্ডের ফটোকপি দেন।

বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া

কেরালকাতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, একাধিক নারীর কাছ থেকে খবর পেয়ে গতকাল সকালে মিলনের বাড়ি গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এক পর্যায়ে তিনি ৫২টি ছবিসহ এনআইডি কার্ডের ফটোকপি বের করে দেন। ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এগুলো নিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। জহুরুল ইসলাম আরও দাবি করেন, মিলন হোসেন আওয়ামী লীগের সমর্থক ও প্রতারক চরিত্রের, যিনি ইতিপূর্বে হত্যা, মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় জেলও খেটেছেন।

অভিযুক্তের জবাব ও ক্ষমা প্রার্থনা

অভিযুক্ত মিলন হোসেন বলেন, তিনি ফেসবুকে দেখেছেন যে দেশের ১৪টি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা আছে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে কলারোয়া উপজেলায় দেওয়া হবে। এ কারণে তাঁর এলাকার গরিব ও অসচ্ছল মানুষের তালিকা করার জন্য তিনি আইডি কার্ড ও সদ্য তোলা ছবি নিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, তাঁকে এ কাজ করার জন্য কেউ বলেননি, তিনি নিজ উদ্যোগেই করেছিলেন। বিষয়টি তাঁর ভুল হয়েছে দাবি করে তিনি ক্ষমা চান।

পুলিশের তদন্ত

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন আজ রোববার সকালে বলেন, এ ঘটনার একটি অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।