দুদকের মামলার মুখে শেখ সেলিম, ১৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ
দুদকের মামলার মুখে শেখ সেলিম, অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

দুদকের মামলার মুখে শেখ সেলিম, ১৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার (১ মার্চ) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যা দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুসন্ধানে প্রমাণিত অবৈধ সম্পদ

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির অনুসন্ধানে শেখ সেলিমের নামে ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকার অবৈধ সম্পদের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই প্রমাণের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা রুজুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের দলনেতা মো. খাইরুল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করবেন বলে জানানো হয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করছে।

পরিবারের সদস্যদের সম্পদ বিবরণী তলব

শেখ সেলিমের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ থাকার সন্দেহ করছে দুদক। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আইনটির ২৬(১) ধারায় তার চার পরিবারের সদস্যকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন— তার স্ত্রী মিসেস ফাতেমা সেলিম, দুই ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম ও শেখ ফজলে নাঈম এবং মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া। দুদক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদের সঠিক হিসাব দাখিল না করলে বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্বের অভিযোগ ও অনুসন্ধানের পটভূমি

এর আগে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠে যে, সংসদ সদস্য থাকাকালে শেখ সেলিম ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকার টেন্ডার কাজে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতেন। এর বিনিময়ে তিনি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে কমিশন নিতেন— এমন গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতেই দুদক আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে। এই অনুসন্ধানই এখন মামলা দায়েরের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে, যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহনশীলতা নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দুদকের এই পদক্ষেপটি সমাজে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠাচ্ছে যে, উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলাটির অগ্রগতি ও বিচারিক ফলাফল এখন সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, যা দেশের দুর্নীতি দমন প্রচেষ্টার জন্য একটি মাইলফলক হতে পারে।