ফেনীর সোনাগাজীতে দুদকের অভিযানে ঘুষের টাকাসহ আটক পিআইও ও সহকারী
ফেনীতে ঘুষ নেওয়ার সময় দুদকের আটক পিআইও ও সহকারী

ফেনীর সোনাগাজীতে দুদকের অভিযানে ঘুষের টাকাসহ আটক পিআইও ও সহকারী

ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এবং তাঁর এক কার্যসহকারীকে হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পিআইও কার্যালয় থেকে এই অভিযান চালিয়ে দুদকের একটি বিশেষ দল তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

আটক ব্যক্তিদের পরিচয়

দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা হলেন সোনাগাজী উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল সাঈদ এবং কার্যসহকারী আবু নাসের। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেতু প্রকল্পের বিল ছাড়ের জন্য ঘুষের টাকা গ্রহণ করছিলেন।

ঘুষের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন সোনাগাজীতে পাঁচটি সেতু প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে উপঠিকাদার হুমায়ুন কবির বিল দাখিল করেন। বিলের অর্থ ছাড়ের জন্য তিনি যোগাযোগ করলে, পিআইও মোহাম্মদ আল সাঈদ এবং তাঁর সহকারী আবু নাসের তাঁর কাছ থেকে মোট ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপঠিকাদার হুমায়ুন কবির প্রথমে ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে, তাঁর বিলের অর্থ আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে, চাপের মুখে তিনি ঘুষ দেওয়ার সম্মতি দেন এবং প্রথম দফায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা প্রদান করেন। দ্বিতীয় দফায় আরও এক লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল, যা বৃহস্পতিবার দুপুরে পিআইও কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

ঠিক সেই মুহূর্তে, আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুদকের একটি দল কার্যালয়ে প্রবেশ করে এবং ঘুষের টাকা গ্রহণের সময় মোহাম্মদ আল সাঈদ ও আবু নাসেরকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় এক লাখ টাকা নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।

দুদকের তদন্ত ও অতীত অভিযোগ

দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফারুক আহমেদ জানান, ২৩ ফেব্রুয়ারি উপঠিকাদার হুমায়ুন কবির একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মোহাম্মদ আল সাঈদ এর আগে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে আরও প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

মো. ফারুক আহমেদ আরও বলেন, আটক দুজনের বিরুদ্ধে দুদকের উপসহকারী পরিচালক চিন্ময় চক্রবর্তী বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব

এই ঘটনা ফেনী জেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুদকের এই অভিযান দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান এবং সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে ভূমিকা রাখবে।