ভারতের সরকারি কর্মকর্তার আলমারি থেকে উদ্ধার ৪ কোটি টাকা ও স্বর্ণ
ভারতের কর্মকর্তার আলমারি থেকে ৪ কোটি টাকা উদ্ধার

ভারতের খনি কর্মকর্তার আলমারি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার

ভারতের উড়িষা রাজ্যে এক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে রাজ্যের দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ভিজিল্যান্স দফতর। দেবব্রত মোহান্তি নামের এই কর্মকর্তা কটক সার্কলের খনি বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি খনিজ সম্পদ বিভাগে সেবা দিয়ে আসলেও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়েছেন।

ঘুষের ফাঁদে ধরা পড়লেন কর্মকর্তা

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, মোহান্তি কয়লা খনিতে চাকরির আড়ালে চরম ঘুষখোর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে ধরার জন্য ফাঁদ পাতা হয়। এক তদন্তকারী কর্মকর্তা কয়লা ব্যবসায়ী সেজে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এসময় মোহান্তি ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় তাকে টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়।

তিনটি ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান

খনি কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের পর ভিজিল্যান্স দফতর তার তিনটি ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চালায়। মোহান্তির ভুবনেশ্বরের ফ্ল্যাট, ভদ্রকে তার পৈতৃক বাড়ি এবং কটকে তার চেম্বারে এই অভিযান পরিচালিত হয়। তদন্তকারীরা জানান, ভুবনেশ্বরে তার ফ্ল্যাটে তল্লাশির সময় একটি ট্রলি ব্যাগ এবং আলমারির ভেতর থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মোট ৪ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে, তবে আরও টাকা লুকনো থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। এছাড়াও, ১৩০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে এই অভিযানে। কর্মকর্তার বাসার ট্রলি ব্যাগ, বিছানার তল এবং অফিসের ডেস্কের ড্রয়ারেও কাড়ি কাড়ি টাকা রাখা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভিজিল্যান্স দফতরের ভূমিকা

ভারতের ভিজিল্যান্স বা সতর্কতা দফতর মূলত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি রোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং অসদাচরণ তদারকির কাজ করে। তারা অনিয়ম, ঘুষ, জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়। এই ঘটনায় তাদের তৎপরতা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঘটনাটি ভারতের উড়িষার রাজ্যের ভুবনেশ্বরে সংঘটিত হয়েছে এবং সূত্র অনুযায়ী, আনন্দবাজার পত্রিকা এই খবর প্রথম প্রকাশ করে। সরকারি কর্মকর্তা মোহান্তি এখন কারাগারে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।