সরকারি কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের জোর দাবি টিআইবির
সরকারি কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয় প্রকাশের দাবি টিআইবির

সরকারি কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের জোর দাবি টিআইবির

সরকার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে সংসদ সদস্যসহ সব সরকারি কর্মকর্তার আয়-ব্যয় ও সম্পদ বিবরণী প্রতি বছর সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

জুলাই সনদের ৭৪ ধারা অনুযায়ী বাধ্যতামূলক প্রকাশের আহ্বান

আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘জুলাই সনদের ৭৪ ধারা অনুযায়ী সব জন-প্রতিনিধিকে দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাসের মধ্যে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে এই চর্চা সব সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।’

শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধার ঘোষণাকে সাধুবাদ

বিবৃতিতে শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়ে ড. জামান বলেন, ‘এটি বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার অবসান ঘটানোর পথে একটি ঐতিহাসিক ও আশা জাগানিয়া পদক্ষেপ। তবে এর টেকসই সুফল পেতে হলে বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখা, নির্বাচনি ইশতেহার এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশল প্রণয়ন করতে হবে।’

দুর্নীতিকে উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও সতর্ক করে বলেন, ‘বিপুল জনরায় নিয়ে ক্ষমতা আসা জোটের দেওয়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায় হলো দুর্নীতি। কার্যকরভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা না গেলে উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি ক্রয় খাত ও বিভিন্ন জনসেবায় ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি এবং অর্থপাচারের মতো চৌর্যতান্ত্রিক অনাচার অব্যাহত থাকার ঝুঁকি থেকে যাবে।’

সাংবিধানিক সংস্কার ও জবাবদিহিতার প্রত্যাশা

ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধন এবং রাষ্ট্রীয় সকল স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে নতুন সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী চেতনার প্রতিফলন ঘটাবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়, এবং এটি নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এই দাবির পেছনে টিআইবি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি কমানোর লক্ষ্য রাখছে। সংস্থাটি মনে করে, নিয়মিত আয়-ব্যয় প্রকাশের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজতর হবে।