দুদকের মামলায় সাবেক মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে আদালত গ্রেপ্তার দেখালেন
দুদকের মামলায় সাবেক মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ গ্রেপ্তার

দুদকের মামলায় সাবেক মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে আদালত গ্রেপ্তার দেখালেন

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে আদালত গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন। ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের আবেদন ও অভিযোগের বিবরণ

দুদকের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা ও উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নুরুজ্জামান আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী মোছা. হোসনে আরা বেগম পারস্পরিক যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, তাঁদের নামের ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাই কারাগারে থাকা গ্রেপ্তার নুরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে দুদক আদালতে দাবি করে।

গ্রেপ্তারের পটভূমি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

গত বছরের ৩০ জানুয়ারি রংপুর নগরের জুম্মাপাড়া পোস্ট অফিসের গলিতে তাঁর ছোট ভাই ওয়াহেদুজ্জামানের বাড়ি থেকে নুরুজ্জামান আহমেদকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে গত ৪ আগস্ট রংপুর সিটি বাজার এলাকায় মাহমুদুল হাসান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও ২০১৯ সালে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবার সংসদ সদস্য হন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনাটি দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎপরতা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।