বরগুনার পাথরঘাটায় আম কুড়াতে গিয়ে বাগানের মালিকের হামলার শিকার হয়েছে মিম আক্তার (৯) নামে এক স্কুলছাত্রী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনার বিবরণ
আহত মিম আক্তার উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মডেরখাল এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ৯টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে একটি আমবাগান থেকে ঝরেপড়া একটি আম কুড়িয়ে নেয় মিম। এ সময় বাগানের মালিক একই এলাকার মো. শাহিন মিয়া বিষয়টি দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটির ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলার পরিণতি
স্থানীয়দের দাবি, হামলার একপর্যায়ে মিমকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে আঘাত করা হয়। এতে তার একটি পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
পরিবারের অভিযোগ
মিমের বাবা মো. হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, সামান্য একটি আম কুড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার ছোট মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। শাহিন মিয়া বেপরোয়া ও মাদকাসক্ত প্রকৃতির মানুষ। স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। উলটো বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমি আর্থিকভাবে অসচ্ছল। মেয়ের চিকিৎসার খরচ চালানো আমার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। থানায় মামলা করতে গেলেও নানা টালবাহানা করা হচ্ছে। ওসি বিষয়টি অবগত থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে মামলা নিতে গড়িমসি করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়টি জেনেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাথরঘাটা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন রানা বলেন, কেউ যদি একটি শিশুর ওপর এমন নির্যাতন করে থাকে, তাহলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
অভিযুক্তের অবস্থান
অভিযুক্ত শাহিন মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পাথরঘাটা থানার ওসি এনামুল হক বলেন, আহত শিশুকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



