দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, গত সপ্তাহ থেকে ধান কাটার কাজ জোরদার হয়েছে।
আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার
গত দুই বছরে জেলায় প্রায় ১,৫০০ আধুনিক ধান কাটার যন্ত্র ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি যন্ত্র প্রতিদিন প্রায় ৫০ একর জমির ধান কাটতে ও মাড়াই করতে সক্ষম। ফলে শ্রমিক সংকট কমেছে এবং খরচও সাশ্রয় হয়েছে। কৃষকরা এখন জমিতেই ধান কেটে, মাড়াই করে বস্তাবন্দী করতে পারছেন।
কৃষকদের সন্তুষ্টি
কৃষকরা আধুনিক যন্ত্রপাতি পাওয়ায় খুশি। তারা বলছেন, এই যন্ত্রগুলো ধান কাটার কাজকে সহজ ও কার্যকর করেছে। দিনাজপুরের ধানক্ষেত এখন কাটা ধানের উৎসবে মুখরিত। জেলাটি দেশের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
অনুকূল আবহাওয়ায় কৃষকরা মাড়াইয়ের পর খড় শুকাতে পারছেন। খড় গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে খুবই চাহিদা রয়েছে। অনেক কৃষক পরিবারের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত খড় বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করছেন।
ফসল কাটার অগ্রগতি
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে এবং অর্ধেকের বেশি পেকে গেছে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের দ্রুত ধান কাটা শেষ করার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি এড়ানো যায়। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মীরা কৃষকদের সহায়তা করছেন এবং মে মাসের মধ্যে ধান কাটা শেষ করতে উৎসাহিত করছেন।
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ ও শস্য) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৭২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও ২ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করেছেন। মোট চাষের জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭০০ হেক্টর। জেলার ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার টন। কর্মকর্তারা আশা করছেন, এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।



