নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী পাঁচটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। আজ বুধবার নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত এ আদেশ দেন। এর ফলে তিনি প্রায় আড়াই বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন।
জামিন আদেশের বিস্তারিত
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাইফুল ইসলাম এ জামিন মঞ্জুর করেন। আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আদালত পাঁচটি মামলায় জামিন দিয়েছেন। এর মধ্যে চারটি মামলা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এবং একটি মামলা পুলিশের করা। জামিনের শর্ত অনুযায়ী, তাকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হবে।
কারাগারে সময় কাটানো
২০২১ সালের অক্টোবর মাস থেকে আইভী কারাগারে ছিলেন। এর আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
আইভীর প্রতিক্রিয়া
জামিন পাওয়ার পর আইভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। ন্যায়বিচার পেয়েছি। আমি আশা করি, বাকি মামলাগুলোতেও আমি জামিন পাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। তবে দেশের আইন ব্যবস্থার ওপর আমার আস্থা আছে।’
আইনজীবীর বক্তব্য
আইভীর আইনজীবী বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি যে, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে। আদালত সঠিক রায় দিয়েছেন। এখন থেকে আইভী নারায়ণগঞ্জের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবেন।’
মামলার পটভূমি
আইভীর বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি দুদকের এবং তিনটি পুলিশের করা। পাঁচটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর বাকি আটটি মামলায় এখনো জামিন আবেদন বিচারাধীন। আইনজীবীরা আশা করছেন, পর্যায়ক্রমে সব মামলায় জামিন পাওয়া সম্ভব হবে।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
আইভীর জামিনের খবরে নারায়ণগঞ্জে তার সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস দেখা গেছে। তারা মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করে। অন্যদিকে, দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলো এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তারা বলছে, এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে দুর্বল করবে।



