কুমিল্লায় পৃথক ঘটনায় স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন দুই নারী। পায়ে পড়ে ইজ্জত ভিক্ষা চেয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। ২০ দিনের ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। স্থানীয়দের ধারণা, সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কোনো চক্র এমন ঘটনার ইন্ধন দিয়ে থাকতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চান্দিনায় ঘটনা
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। রোববার রাত ১২টার দিকে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের কামারখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন চান্দিনার মাদারপুরের শাহজাহান মিয়ার ছেলে মো. আশিক, কামারখোলা গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে তারেক, একই গ্রামের আলমাছ মিয়ার ছেলে মো. আরিফ ও জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. ইসমাইল।
ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামী জানান, বরুড়া উপজেলা থেকে তারা রাত ৯টার দিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চান্দিনায় এক আত্মীয়ের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। রাত ১০টার দিকে চান্দিনার মাদারখোলা এলাকায় অটোরিকশাটির চার্জ শেষ হয়ে যায়। এরপর তারা অটোরিকশাটি ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে তিন যুবক এসে তাদের পথ রোধ করে।
ওই নারীর স্বামী বলেন, মোটরসাইকেলে করে তিনজন এসেই আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করে। তারা ফোন করে আরও দুজনকে ডেকে আনে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আমার স্ত্রীকে টেনেহিঁচড়ে পাশের ধানখেতে নিয়ে যায়। একজন আমাকে দূরে নিয়ে অন্ধকারে ছেড়ে দেয়। এ সময় আমি ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করে।
ঘটনার পর থেকে ওই নারী চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেন, ওরা আমাকে ধর্ষণ করে। আমি তাদের পায়ে ধরেছি, চিৎকার করে কান্না করেছি। ইজ্জত ভিক্ষা চেয়েছি। কিন্তু আমার শেষ রক্ষা হয়নি। আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
হোমনায় আরেক ঘটনা
১৫ এপ্রিল কুমিল্লার হোমনায় বাবার বাড়ি যাওয়ার পথে স্বামীর কাছ থেকে গৃহবধূকে ছিনিয়ে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। পৌর এলাকার কৃষি কলেজের অদূরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত যুবকেরা স্বামীর কাছ থেকে ওই নারীকে ছিনিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে আশিকুর রহমানসহ আরও কয়েকজন তাকে ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী নারী জানান, তাদের পায়ে পড়ে অনেক আকুতি-মিনতি করেছি। ইজ্জত ভিক্ষা চেয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আমি আল্লাহর কাছে তাদের কঠিন বিচার চাই।
স্থানীয় ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া
কুমিল্লার সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, সভ্যতার এ যুগে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা কীভাবে সম্ভব হয় তা বোধগম্য নয়। এগুলো অশনি সংকেত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সামাজিক নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে।
চান্দিনা থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ওই নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় সংঘবদ্ধ ওই চক্রে পাঁচজন জড়িত। তাদের মধ্যে দুজন ধর্ষণ করেছে। বাকিরাও অপেক্ষমাণ ছিল। আমরা ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেফতার করেছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আমরা আসামিদের কারাগারে পাঠিয়েছি। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দুটি ঘটনায় অভিযুক্তরা গ্রেফতার হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।



