দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদকে (৪৮) পাবনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার (৪ মে) দুপুরে তাকে পাবনা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে রোববার দিবাগত রাতে পাবনা শহরের গোপালপুর এলাকা থেকে দুদক ও পুলিশের একটি বিশেষ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার আবুল কালাম আজাদ পাবনার সুজানগর উপজেলার হাসামপুর গ্রামের শমসের আলী মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি সপরিবারে পাবনা পৌর শহরের শালগাড়িয়া সদর হাসপাতাল রোডে বসবাস করেন।
দুদকের তথ্য নিশ্চিতকরণ
দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুদকের মামলা সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি এবং সরকারি অর্থ নিজ স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে চারটি পৃথক মামলা দায়ের করেছিল দুদক। দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তিনি পলাতক থাকা অবস্থায় রোববার রাতে পাবনা শহরের গোপালপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
দুদকের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দুদক কর্তৃক প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ৮ মে তার প্রতি সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করে দুদক। ১১ মে সেই নোটিশ গ্রহণ করে ৩ জুলাই উপপরিচালক, দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পাবনা বরাবর সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন আবুল কালাম আজাদ। সম্পদ বিবরণী যাচাই/অনুসন্ধানকালে দেখা যায় যে, আবুল কালাম আজাদ কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৯ লাখ ৪২ হাজার ২৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া অনুসন্ধানে তার আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার প্রাথমিক প্রমাণ পায় কমিশন।



