লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলায় রহস্যময় একটি সুড়ঙ্গের সন্ধান পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একটি বাড়ির বাগানের ভেতরে মাটি খুঁড়ে তৈরি করা হয়েছে বিশাল এই সুড়ঙ্গটি। এর ভেতরে রয়েছে ওঠানামার সিঁড়ি, বিছানা ও বালিশের মতো জিনিসপত্র। বাইরে থেকে কিছু বোঝা যাবে না, সেজন্য প্রবেশ পথে বাঁশ ও গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল।
সুড়ঙ্গের অবস্থান ও নির্মাণ
সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামে পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির পাশের একটি বাগানে এই সুড়ঙ্গের সন্ধান মেলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এটি মাদক সেবন ও বিক্রির গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সুড়ঙ্গটির ভেতরে তিন থেকে চারজন একসঙ্গে অবস্থান করতে পারতেন। প্রবেশমুখে বাঁশ ও ডালপালা দিয়ে তৈরি ঢাকনা থাকায় বাইরে থেকে কিছু বোঝা যেত না।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় চাঞ্চল্য
একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে সুড়ঙ্গটি ভেঙে ফেলা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সুজন সাহা নামের এক যুবক তার সহযোগীদের নিয়ে সুড়ঙ্গটি তৈরি করেছিলেন। তিনি তার সহযোগীদের নিয়ে এখানে নিয়মিত বসতেন এবং মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
পরিবারের বক্তব্য
সুজন সাহার স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুড়ঙ্গটি তার স্বামী তৈরি করেছিলেন। তবে সেখানে মাদক সেবন করা হতো কি না, তা তিনি জানেন না।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তিনি সুড়ঙ্গটির বিষয়ে জেনেছেন। এটি যিনি তৈরি করেছিলেন তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। মাদক সেবনের সুবিধার্থেই তিনি বাগানের ভেতরে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিলেন।’
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুড়ঙ্গটি শনাক্ত করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে মাদক সেবন করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন। পরে মাদক সেবন রোধে সুড়ঙ্গটি ভেঙে ফেলা হয়।



