এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি, গ্রেফতার ১০
এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি, গ্রেফতার ১০

যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, চক্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী, রাজনীতিবিদ তাসনিম জারা ও ডা. জাহাঙ্গীর কবিরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি, কণ্ঠ এবং ভিডিও ব্যবহার করে ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি করত।

গ্রেফতারকৃতরা কারা?

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. সারাফাত হোসেন, সাফায়েত হোসেন শুভ, তৌকি তাজওয়ার ইলহাম, তাকিবুল হাসান, আব্দুল্লাহ আল ফাহিম, মিনহাজুর রহমান শাহেদ, শাহামান তৌফিক, ইমন হোসেন বিজয়, অমিদ হাসান ও মো. ইমরান। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

গ্রেফতার ও জব্দের বিবরণ

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ কলোনী এলাকা থেকে ৯ জনকে এবং পরের দিন ২৪ এপ্রিল রাতে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকার এভিনিউ-১ থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পাশাপাশি মোহাম্মদপুরের একটি গুদাম থেকে প্রায় তিন টন যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ করা হয়। এছাড়া প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১১টি ল্যাপটপ, ১৩টি স্মার্টফোন, ৩৪টি ফিচার ফোন, ২১টি সিম কার্ড এবং দুটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এআই ও ডিপফেকের ব্যবহার

পুলিশ জানায়, চক্রটি মিজানুর রহমান আজহারী, ডা. জাকির নায়েক, ড. জাহাঙ্গীর কবির ও তাসলিম জরার মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের কণ্ঠ এবং ভিডিও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে নকল করত। এরপর সেসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে নিম্নমানের যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি করা হতো। পুলিশ এই কৌশলকে ‘অত্যাধুনিক প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, যেখানে বাস্তব ব্যক্তির চেহারা ও কণ্ঠ ব্যবহার করে মানুষের আস্থা অর্জন করা হতো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুক্তভোগীর সতর্কতা

ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী ড. আজহারী প্রথম ভুয়া ভিডিও ও বিজ্ঞাপন শনাক্ত করেন এবং তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সতর্কতামূলক পোস্ট দেন। পরে তার প্রতিনিধি বিল্লাল হোসেন পল্টন মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়।

চক্রের কার্যক্রম

তিনি জানান, চক্রটির মূল হোতা সারাফাত হোসেন প্রযুক্তি ও ওয়েব ডিজাইনে দক্ষ। গ্রেফতার হওয়া অপর সদস্য শাফায়েত হোসেন শুভ এআই ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট বা বিজ্ঞাপন তৈরি করতেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি চট্টগ্রাম থেকে প্রচারণা চালালেও পণ্য সরবরাহ করা হতো ঢাকার মোহাম্মদপুরের গোডাউন থেকে। পাঠাও ও স্টিডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ পদ্ধতিতে সারাদেশে ওষুধ পাঠানো হতো। তবে এসব কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কোনও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মতিঝিল বিভাগের ডিসি বলেন, “এটি একটি বড় নেটওয়ার্ক। আমরা এই চক্রের আরও সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা গোডাউনগুলো শনাক্তে কাজ করছি। একইসঙ্গে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটগুলো বন্ধের প্রক্রিয়া চলছে।”