কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অ্যাডমিন পরিচয় গোপন করা একটি পেজ থেকে ‘বিভ্রান্তিকর’ পোস্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দলীয় ও ব্যক্তিগত মর্যাদাহানীর অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতার পক্ষ থেকে কুড়িগ্রামের রাজারহাট থানায় সাধারণ ডায়রি করেছেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আইনজীবী শফিকুল ইসলাম।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। জামায়াত সমর্থিত এনসিপি প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদের কাছে তিনি পরাজিত হন। পরে তাকে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।
ফেসবুক পোস্ট ও জিডি সূত্রে জানা গেছে, সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনি প্রচারণায় জনসংযোগকালে হাজারো ভোটারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় অনেকে তার সঙ্গে ছবি তোলেন। নির্বাচনি প্রচারণার সময় তিনি তার নিজ নির্বাচনি এলাকা রাজারহাটের ঘড়িয়াল ডাঙায় গেলে সেখানেও অনেকে তার সাথে হাত মেলান (হ্যান্ডশেক), ছবি তোলেন। সে সময় কারাবন্দি র্যাব কর্মকর্তা ও কুড়িগ্রামের বাসিন্দা আলেপ উদ্দিনের ভাই আলতাফ সহ এলাকার অনেকে বিএনপি নেতা সোহেলের সঙ্গে ছবি তোলেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ‘Rajarhat Narrative’ (‘রাজারহাট ন্যারেটিভ’) নামে একটি ফেসবুক পেজে সেই ছবি পোস্ট করে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়। পেজটিতে নির্বাচনি প্রচারণায় জনসংযোগকালে ছবি পোস্ট করে দাবি করা হয়, ‘কারাবন্দি র্যাব কর্মকর্তা আলেপের জামিনে তদবির করছেন বিএনপির জেলা পরিষদ প্রশাসক সোহেল কায়কোবাদ।’ তবে ছবি বা পোস্টে আলেপের জামিনে বিএনপি নেতা সোহেল তদবির করেছেন এমন কোনও প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
এ ঘটনার পর দলীয় ও ব্যক্তিগত মর্যাদাহানির অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতা সোহেলের পক্ষে রাজারহাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম।
জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপি নেতা সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘আমার নামে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। নির্বাচনি প্রচারণায় জনসংযোগ করে এলাকার সবার কাছে ভোট চেয়েছি। কত মানুষ ছবি তুলেছে। কে কার ভাই, বা কে কোন দলের এসব খোঁজ করে কিংবা হিসাব করে ভোট চাওয়া যায় না। একজন প্রার্থীর কাছে সব ভোটার সমান। সবার কাছেই ভোট চেয়েছি। সে সময়কার ছবি দিয়ে কে বা কারা ফেসবুকে পোস্ট করে বিভ্রান্তিকর ও অপতথ্য ছড়িয়ে আমার এবং দলের মানহানি করার চেষ্টা করছে। সেজন্য আমার পক্ষ থেকে রাজারহাট উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম থানায় জিডি করেছেন। আশা করছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’
কারও প্রতি সন্দেহ আছে কিনা, প্রশ্নে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি একাধিক ছেলে ওই পেজের সঙ্গে জড়িত। সন্দেহভাজনদের বিষয়ে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। অনুসন্ধান করে তারা জড়িতদের সঠিক পরিচয় বের করে আইনি ব্যবস্থা নেবেন। আইনি সুরক্ষায় আমরা বিষয়টি নিয়ে সাইবার ট্রাইব্যুনালে যাবো।’
রাজারহাট থানার ওসি বলেন, ‘অভিযোগটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য জিডিটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।’



