বগুড়ায় টিসিবি ডিলারশিপ নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে চাপ, পাল্টা অভিযোগ
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় টিসিবি ডিলারশিপের জন্য আবেদনকারীর ছেলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে একটি বসতবাড়িকে মুদি দোকান হিসেবে দেখিয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন, আবার আবেদনকারী ডিলারও তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের পাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মেসার্স যমুনা এন্টারপ্রাইজের মালিক আনোয়ার হোসেন টিসিবি ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেন। আবেদনের ভিত্তিতে তদন্তের দায়িত্ব পান উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক উল হায়দার। তিনি গত ২৫ মার্চ সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখতে পান, প্রতিষ্ঠানে কোনো মুদি দোকান নেই। এরপর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এই প্রতিবেদন দাখিল করেন।
চাপ ও পাল্টা অভিযোগ
প্রতিবেদনের কথা শুনে আনোয়ার হোসেনের ছেলে জিল্লুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার অফিসে যান। সেখানে তিনি কর্মকর্তাকে তার বসতবাড়িকে মুদি দোকান হিসেবে দেখিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। পরে তার পক্ষে রিপোর্ট না দেওয়ায় জিল্লুর রহমান তথ্য অধিকার আইনে অফিসের যাবতীয় তথ্য চেয়ে আবেদন করেন।
অন্যদিকে, আবেদনকারী ডিলার আনোয়ার হোসেন গত ৪ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টিসিবি ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, তদন্ত কর্মকর্তা সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত ইচ্ছায় কাজ করছেন এবং অযোগ্য প্রার্থীকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
কর্মকর্তার বক্তব্য
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক উল হায়দার বলেন, "জিল্লুর রহমান আমাকে মিথ্যা রিপোর্ট জমা দিতে চাপ দিয়েছেন। তারা মূলত গ্রামে থাকেন না, বগুড়া শহরের সাবগ্রাম রেলগেট এলাকায় বসবাস করেন। মিথ্যা রিপোর্ট না দেওয়ায় তিনি আমার ছুটির সময়েও ইউটিউব চ্যানেলে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে মানহানি করেছেন।"
অভিযুক্তের জবাব
জিল্লুর রহমান তার পক্ষ থেকে বলেন, "তদন্ত কর্মকর্তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও অসৎ উদ্দেশ্যে কাজ করছেন। তিনি নিয়মতান্ত্রিক আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে অযোগ্য প্রার্থীকে সুযোগ দিতে চাইছেন, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক।"
তদন্তের অবস্থা
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, এ বিষয়ে উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই টিসিবি ডিলারশিপ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দাবি করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে, নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে নজরদারি বাড়ানো হবে।



