সংসদে উত্থাপিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও পাবলিক এক্সামিনেশনস সংশোধনী বিল
সংসদে উত্থাপিত মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও পরীক্ষা আইন সংশোধনী

জাতীয় সংসদে রবিবার (২৮ জুন) দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করা হয়েছে। বিল দুটি হলো 'বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯৮ (১৯৯৮ সনের ১ নম্বর আইন)' এবং 'দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬'। উত্থাপনের পর স্পিকার বিল দুটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠিয়েছেন।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনীর প্রয়োজনীয়তা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রথম বিলটি উত্থাপন করেন। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চ শিক্ষা, গবেষণা ও সেবার মান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় 'বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল' স্থাপন করা হয়, কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হলেও চিকিৎসক ও অন্যান্য সহায়ক জনবল নিয়োগ না হওয়ায় এবং পরিচালনা পদ্ধতি স্পষ্ট না থাকায় হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালটি চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সভায় হাসপাতালটিকে 'কোম্পানি আইন, ১৯৯৪'-এর অধীনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিলে আরও বলা হয়, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয় মুনাফাভিত্তিক বা অ-মুনাফাভিত্তিক কোম্পানি বা সংগঠন গঠন করতে পারবে এবং শেয়ার অর্জন ও ধারণ করতে পারবে। এ লক্ষ্যে প্রাসঙ্গিক বিধানগুলো সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট করতে আইন সংশোধন প্রয়োজন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোম্পানি গঠন ও বিনিয়োগের বিধান

বিলে কোম্পানি গঠন ও পরিচালনায় সিন্ডিকেটের ক্ষমতা, সংবিধি প্রণয়নের পরিধি, বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলে কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত আয় অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং তহবিল থেকে কোম্পানিতে বিনিয়োগের শর্তাবলী স্পষ্টভাবে আইনে সন্নিবেশিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যাক্ট সংশোধনীর প্রেক্ষাপট

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দ্বিতীয় বিলটি উত্থাপন করেন। বিলের বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ প্রস্তুত এবং অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধে প্রায় ৪৫ বছর আগে 'দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০' প্রণীত হয়। বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যমান আইনের ধারাগুলো সময়োপযোগী নয়।

সংশোধনীর মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত এবং ডিজিটাল পদ্ধতি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড আইনের আওতায় আনার উদ্দেশ্যে বিদ্যমান আইন সংশোধন জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।

খসড়া আইন প্রণয়নের ধাপসমূহ

গত ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভা বৈঠকে 'দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬' এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই বৈঠকের নির্দেশনা অনুযায়ী খসড়া সংযোজন/বিয়োজন ও পরিমার্জন করা হয়। ২৮ এপ্রিল লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ ভেটিংয়ের জন্য প্রেরণ করা হলে তারা ৭ মে ভেটিং করে প্রেরণ করে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধন করে পুনরায় ভেটিং সম্পন্ন করে ১৮ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করা হয়। ৪ জুন মন্ত্রিসভা বৈঠকে আইনটি সংশোধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা মোতাবেক আইন সংশোধন করে পুনরায় ভেটিং করে রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর রুল ১৬ (i) অনুযায়ী মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ১০ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করা হয়। শেষে ১৮ জুন সংশোধন আইনের খসড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়।