ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মো. শরিফুল ইসলামকে ঘিরে ত্রিমুখী তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের পর বেবিচকের নিজস্ব তদন্তের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
অভিযোগের বিবরণ
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার পিতা মো. মোশাররফ হোসেনের মুক্তিযোদ্ধা সনদের ভিত্তিতে তিনি ২০০১ সালের ২৪ জানুয়ারি বেবিচকে যোগদান করেন। তবে ওই সনদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তার পিতাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতি
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চাকরির সময় শরিফুল ইসলামের জমা দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের যাচাই-বাছাই প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কিছু অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ জেলার গেজেটভুক্ত ৬৪০ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় মোশাররফ হোসেনের নাম পাওয়া যায়নি।
সনদের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগে বলা হয়েছে, শরিফুল ইসলামের সরবরাহ করা ১৯৯৯ সালের ২৬ অক্টোবর ইস্যুকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আহাদ চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। তবে এ ধরনের সনদে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর থাকার বিষয়টি তদন্তকারীদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে, যা সনদের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বেবিচকের অবস্থান
বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) অতিরিক্ত সচিব এস এম লাবলুর রহমান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পদোন্নতি নিয়েও অভিযোগ
শুধু চাকরি নয়, পদোন্নতি নিয়েও শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এছাড়া আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক অনিয়মের মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে উচ্চপদে উন্নীত হওয়ার অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে।
প্রকৌশলীর বক্তব্য
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পরবর্তী পদক্ষেপ
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় আরও বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্ত শেষ হলে শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।



