কুষ্টিয়া এমপির স্ত্রীকে হত্যার হুমকির অভিযোগ
কুষ্টিয়া এমপির স্ত্রীকে হত্যার হুমকি

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার স্ত্রীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (০২ জুন) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ অভিযোগ করেন তিনি।

আমির হামজার ফেসবুক পোস্ট

আমির হামজা তার ভেরিফাইড ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৩ আসনের জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য। গতকাল একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার শ্যালককে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে এবং আমার স্ত্রীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে আমি পৌঁছানোর আগেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমি আশাবাদী, এই নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে তাদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

প্রশাসনের পদক্ষেপ

তিনি আরও লিখেছেন, ‘ইতিমধ্যে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাকে অবগত করেছেন যে, গতকাল রাত থেকেই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, অভিযুক্তরা নিজ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি প্রশাসনের প্রতি আস্থা ও প্রত্যাশা রাখি যে, আমার শ্যালকের ওপর হামলাকারী এবং আমার স্ত্রীকে হত্যার হুমকিদাতাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী ঘটনা ও মামলা

এর আগে সোমবার রাতে আমির হামজার ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মো. আবু বকর সিদ্দিককে ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগে তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানায় এ মামলা করা হয়। ওই দিন বিকাল সাড়ে ৫টায় স্থানীয় হাসাদাহ বাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- হাসাদাহ বাজার এলাকার বাসিন্দা মোস্তাক হোসেন (৪৫) ও তাঁর শ্যালক রিমন হোসেন (৩২) এবং মাশরুল মুহিব (২৫)।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের সেনেরহুদা গ্রামে সংসদ সদস্য আমির হামজার শ্বশুরবাড়ি। চাচাতো শ্যালক মুশফিকুর রহমানের বিয়ে উপলক্ষে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে দুটি গাড়িতে করে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার নস্তি গ্রামে যান। বিয়ে শেষে সেনেরহুদা গ্রামে ফিরছিলেন। এ সময় হাসাদাহ বাজারে একটি ইজিবাইককে হর্ন দিয়ে সরানোকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্যের স্টিকারযুক্ত গাড়ির চালকের সঙ্গে স্থানীয় অটোরিকশাচালকদের কথা কাটাকাটি হয়। সেখানে সংসদ সদস্যের এপিএস আবু বকর সিদ্দিককে ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জীবননগর থানার ওসিসহ একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার উপস্থিতিতে স্থানীয় লোকজন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত মামলা করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দিন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সংসদ সদস্য আমির হামজার ব্যক্তিগত গাড়িযোগে মহেশপুর থেকে সেনেরহুদা যাওয়ার সময় পথিমধ্যে হাসাদাহ বাজারের মেইন বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কে ওঠার সংযোগস্থলে ইজিবাইক দাঁড়িয়ে থাকতে পাওয়া যায়। বারবার হর্ন দেওয়া সত্ত্বেও ইজিবাইকচালক সরেননি। পরে সংসদ সদস্যের গাড়ির চালক সাদ্দাম হোসেন গাড়ি থেকে নেমে ইজিবাইকচালককে তার ইজিবাইক সরানোর কথা বললে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এপিএস আবু বকর সিদ্দিক গাড়ি থেকে নেমে ইজিবাইকচালককে সরে যাওয়ার অনুরোধ করলে এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা পথরোধ করে এবং ধস্তাধস্তি ও কিল-ঘুষি-লাথি মেরে জখম করেন। গাড়ির ভেতরে থাকা সংসদ সদস্য আমির হামজার স্ত্রী নিজের পরিচয় দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে আসামিরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও খুন জখমের হুমকি দেন।