বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তা আল হাসান মিলাদ ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছেন। ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় সংগীত রক্ষার পক্ষে মতামত দিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন। ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ঘটনায় জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের প্রশ্ন ওঠে, বিশেষ করে এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা নয় বলে দাবি করা হয়।
আহমাদুল্লাহর সমালোচনা
বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত আহমাদুল্লাহ ও কয়েকজন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় 'আমার সোনার বাংলা' জাতীয় সংগীত নিষিদ্ধের পক্ষে জোরালো সমালোচনা করেন। তারা বলেন, সংগীতে বাংলাদেশের নাম নেই, সৃষ্টির আগের এই সংগীত নিষিদ্ধ করা উচিত। এই যুক্তির বিরোধিতা করেন আল হাসান মিলাদসহ অনেকে।
মিলাদের অবস্থান
মিলাদ জাতীয় সংগীতের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। কিন্তু তার পুরো পোস্ট না ছড়িয়ে কেউ কেউ প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে সামাজিক মাধ্যমের বিচার শুরু করে। পরে তাকে নিরাপত্তার জন্য ক্যান্টনমেন্টে নেওয়া হয়, তবে তাকে ক্ষমা চাইতে হয়। ক্ষমা চাওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি ১১ মাস ১৪ দিন কারাগারে কাটান, দাবি করেন তিনি দেশের জাতীয় সংগীত ও ১৯৭২ সালের সংবিধান রক্ষা করেছেন। সূত্র অনুযায়ী, মিলাদ জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী ও আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ৫ আগস্ট থেকে তিনি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালাতে অর্থ প্রদান ও অনলাইন কাজে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ।
আল হাসান মিলাদ বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংগীতকে অপমান বা ইচ্ছাকৃতভাবে মানহানি করলে গুরুতর শাস্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহিতা ধরা হয়। তিনি বলেন, 'জাতীয় সংগীত রক্ষায় আমি ১১ মাসের বেশি জেলে ছিলাম। আমার শিক্ষার সময় নষ্ট হয়েছে। তবে মূল সমস্যা ছিল ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, যা আমি দিতে রাজি হইনি। পুলিশে অভিযোগ করলেও কেউ শোনেনি, তাই এতদিন জেলে থাকতে হয়েছে।'



