ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি প্রাচীন কালো রঙের কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করেছে র্যাব-১৩। এ ঘটনায় ভারতে পাচারের অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মূর্তিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে র্যাব।
অভিযানের বিবরণ
সোমবার (২৯ জুন) বিকালে হরিপুর উপজেলার ৩ নম্বর বকুয়া ইউনিয়নের কিশমত ভৈষা গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন মো. হাসান আহাম্মদ (২৬) ও মো. নাজমুল (৬৪)। র্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩-এর সিপিসি-২ (নীলফামারী)-এর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
উদ্ধারকৃত মূর্তির বৈশিষ্ট্য
র্যাবের দাবি, অভিযানের সময় হাসান আহাম্মদের বাড়ির পশ্চিম ভিটার পূর্বমুখী গোয়ালঘর থেকে একটি দ্বিখণ্ডিত কালো কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিষ্ণুমূর্তিটির মাথার অংশের দৈর্ঘ্য ৩২ ইঞ্চি এবং নিচের অংশের দৈর্ঘ্য ১৬ ইঞ্চি। পুরো মূর্তিটির ওজন প্রায় ১১৫ কেজি। এতে বিভিন্ন অংশ ভাঙা ও ক্ষয়প্রাপ্ত রয়েছে।
পাচার উদ্দেশ্য ও আইনি ব্যবস্থা
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রত্নসম্পদটি চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে গোপনে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। অভিযানের সময় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা মূর্তিটি নিজেদের হেফাজত থেকে বের করে দেন। পরে ডিজিটাল ওজনযন্ত্রে ওজন করে জব্দতালিকা প্রস্তুত করা হয়। র্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া প্রত্নবস্তুটি দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তনগর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার হরিপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
হরিপুর থানার ওসি আব্দুল হাকিম আজাদ জানান, র্যাবের দায়ের করা মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া প্রত্নসম্পদ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।



