ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। একই দিনে তাঁকে ডিএসসিসি থেকে বগুড়া সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়েছে।
তদন্তের নির্দেশনা
আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। একটি আদেশে আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামকে। অন্য আদেশে আনিছুর রহমানকে বগুড়া সিটি করপোরেশনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে অথবা সমমানের কোনো শূন্য পদে বদলি করা হয়।
অভিযোগের বিবরণ
তদন্তসংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, ডিএসসিসির যান্ত্রিক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, টেন্ডার-বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রও পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।
সহযোগিতার অনুরোধ
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে তদন্তকাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠির অনুলিপি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও ডিএসসিসির প্রশাসকের দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া হয়েছে।
বদলির আদেশ
অন্যদিকে বদলির আদেশে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে আনিছুর রহমানকে বগুড়া সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়েছে। তিনি নিজের বেতনক্রম অনুযায়ী বেতন ও বদলি হওয়া পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা পাবেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের দায়িত্ব
আনিছুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ডিএসসিসির যান্ত্রিক বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। সিটি করপোরেশনের গাড়ি ও যন্ত্রপাতি কেনা, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিভিন্ন প্রকল্পের যান্ত্রিক কাজের সঙ্গে এই বিভাগ যুক্ত। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে প্রকল্পের দরপত্র, কেনাকাটা, বিল পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র গুরুত্ব পেতে পারে।



