খাগড়াছড়ির রামগড়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের মানবিক ত্রাণের আওতায় বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত এক মেট্রিকটন চালের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৭ ও ৯ হাজার টাকা করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুনলে শায়েস্তা খাঁর আমলের বাজার দরের কথা মনে পড়লেও এই ঘটনা সত্যিই ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা।
২৭টি প্রতিষ্ঠানের জন্য চাল বরাদ্দ
জানা গেছে, উপজেলার ২৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে ২৭ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বন্যা, নদী ভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রদত্ত ত্রাণ কার্যের (চাল) বরাদ্দ থেকে রামগড় উপজেলার জন্য ১২ মেট্রিকটন, রামগড় পৌরসভার জন্য তিন মেট্রিকটন ও দীঘিনালা উপজেলার জন্য ৮ মেট্রিকটন চাল উপ-বরাদ্দ দেন জেলা প্রশাসক।
এছাড়া একই সময়ে সরকারি-বেসরকারি এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং, অনাথ আশ্রম, বৃদ্ধাশ্রম ও অন্যান্য সামাজিক কল্যাণে নিয়োজিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মানবিক সহায়তা হিসেবে জেলার ৯ উপজেলা ও তিনটি পৌরসভার জন্য মোট ৯৬ মেট্রিকটন চাল উপ-বরাদ্দ দেন জেলা প্রশাসক। তারমধ্যে রামগড় উপজেলার জন্য ১০ মেট্রিকটন ও পৌরসভার জন্য ৫ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ হয়। গত ১৫ জুন জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে এ উপ-বরাদ্দ দেন বিতরণের জন্য।
অভিযোগ: চালের বদলে নগদ টাকা
অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের এক টন চালের বদলে নগদ ৯ হাজার ও ৭ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। ১২টি মসজিদ ও নূরাণী মাদ্রাসায় চাল না দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নগদ ৯ হাজার টাকা, ১০টি মন্দির ও বৌদ্ধ বিহারের দায়িত্বশীলদের সাত হাজার টাকা হারে প্রদান করা হয়। অন্যদিকে একটি মাদ্রাসায় দেওয়া হয় ২০ হাজার টাকা।
রামগড় পৌরসভার তালিমুল কুরআন নূরাণী মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মাদ্রাসার নামে এক মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ হলেও পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) মাদ্রাসার এক শিক্ষককে অফিসে ডেকে নিয়ে ৯ হাজার টাকা দিয়েছেন।’
একই অভিযোগ করেছেন বালুখালি বাহারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সভাপতি ওসমান গণি, বলিটিলা তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, সোনাই আগা কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ধনঞ্জয় ত্রিপুরাসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও শিক্ষক। তারা জানান, ‘পিআইও বরাদ্দের চাল বাজারে প্রতি টন ৩৩-৩৪ হাজার টাকা হারে বিক্রি করেছেন। অথচ আমাদের কাউকে দিয়েছে ৯ হাজার টাকা, আবার কাউকে ৭ হাজার টাকা।’
অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ
বালুখালি বাহারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওসমান গণি অভিযোগ করে বলেন, ‘বালুখালি আলো তালীমুল কুরআন মাদ্রাসা নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে এক টন বরাদ্দ দেওয়া হলেও এ নামে ওই এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নাই।’
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম এ করিম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘যার নামে বরাদ্দপত্র ইস্যু করা হয়, সে ব্যতিত অন্য কারও পক্ষে বরাদ্দের চাল বা গম খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করা সম্ভব নয়।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া
রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম এ ব্যাপারে বলেন, ‘মৌখিকভাবে এ অভিযোগ পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। তদন্তক্রমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



