বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, জামায়াত থেকে বের হয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যদি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে না পারে, তাহলে দেশে ‘নতুন বন্দোবস্তের’ আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে। শনিবার (১১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এনসিপির উত্থান ও জনসমর্থন কমেছে
পোস্টে রাশেদ খান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এনসিপির উত্থান জরুরি ছিল। তবে জুলাই পদযাত্রায় দলটির প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও উদ্দীপনা আগের তুলনায় কমে গেছে বলে তার পর্যবেক্ষণ। তিনি আরও দাবি করেন, সাভারে এনসিপির পথসভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার পর ঢাকায় উল্লেখযোগ্য প্রতিবাদ দেখা যায়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় ইসহাক সরকারের ডাকে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হলেও সাম্প্রতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তেমন সাড়া মেলেনি।
জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ
রাশেদ খানের ভাষ্য, এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে দলটি জামায়াতেরই একটি অঙ্গসংগঠন। তার দাবি, এ কারণে ‘নতুন রাজনীতির’ ধারণাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এনসিপিকে নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। তিনি লেখেন, ‘এনসিপিই যদি জামায়াত হয়, তবে মানুষ কেন জামায়াতে বাদ দিয়ে এনসিপি করবে? সুতরাং এনসিপিকে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে যে, আমরা আসলেই নতুন বন্দোবস্তের দল।’
শীর্ষ নেতৃত্বে জামায়াতের প্রভাব
রাশেদ খান আরও বলেন, এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশ জামায়াতের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বলে তার দাবি। এ কারণে তারা দলটিকে জামায়াতের প্রভাবমুক্ত করতে চাইবেন কিনা, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আওয়ামী লীগের প্রাসঙ্গিকতা ফেরার আশঙ্কা
পোস্টের শেষাংশে বিএনপি নেতা বলেন, এনসিপির প্রতি মানুষের প্রত্যাশা কমতে থাকলে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ আবারও রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠার সুযোগ পেতে পারে, যা তার ভাষায় ‘জাতির জন্য অশনিসংকেত’। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, জামায়াত কখনো পুরোপুরি সরকারি দল বা পুরোপুরি বিরোধীদল হওয়ার ঝুঁকি নেবে না। জামায়াত তার সক্ষমতা বুঝে ফেলেছে। স্বাধীনতা না চেয়ে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার ঝুঁকি নেওয়া যায় না। এই ঝুঁকি জামায়াত নিবে না।



