বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সংসদ সদস্য জি এম সিরাজ সোমবার ভারত সরকারের কাছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক নেতা সুবেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সুবেন্দুর বাংলাদেশবিরোধী মন্তব্যকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন।
সংসদে বাজেট আলোচনায় বক্তব্য
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে স্পিকারের মাধ্যমে মোদি সরকারের কাছে এই আহ্বান জানান জি এম সিরাজ। ইউএনবি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আপনার মাধ্যমে আমি মোদি সরকারের কাছে সুবেন্দু বাবুকে থামানোর জন্য অনুরোধ করছি। তিনি মাঝে মাঝে যে বাংলাদেশবিরোধী মন্তব্য করেন, তা ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
শেখ হাসিনার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে মন্তব্য
সিরাজ আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর প্রাসঙ্গিক নন। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। তার সম্পর্কে আমাদের কোনো উদ্বেগ নেই। তিনি বাংলাদেশে নেই এবং দৃশ্যপট থেকে সরে গেছেন।”
সমুদ্রসীমা জয় ও সম্পদ আহরণ
২০১৪ সালে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা জয়ের কথা উল্লেখ করে সিরাজ বলেন, এই অর্জন ব্যাপকভাবে উদযাপিত হলেও দেশ সমুদ্র থেকে সম্পদ আহরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “সেই সম্পদ ব্যবহার করতে হলে আমাদের তথাকথিত মনিবদের অনুমোদন ও সদিচ্ছা ছাড়া এগোতে পারিনি।”
অফশোর বidding প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরে সিরাজ বলেন, বর্তমান সরকার এই বিষয়ে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তা কারও অনুমতি ছাড়াই করেছে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অপরিহার্যতা
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে সিরাজ বলেন, ভৌগোলিক বাস্তবতা এই সম্পর্ককে অনিবার্য করে তোলে। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি ভারত আমাদের প্রতিবেশী। বন্ধুত্ব সাময়িক হতে পারে, এমনকি বিয়েও বিবাহবিচ্ছেদে শেষ হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারত প্রতিবেশী হিসেবে একে অপরকে তালাক দিতে পারে না। ভারত বা বাংলাদেশ কেউই সেই বাস্তবতা অস্বীকার করতে পারে না।”
উচ্চ কমিশনারের বক্তব্য প্রসঙ্গে
সিরাজ ভারতের নতুন হাই কমিশনার বাংলাদেশের প্রতি মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন, যিনি সম্প্রতি বলেছেন যে দুই দেশ “একই আকাশ এবং একই বাতাস” ভাগ করে নেয়।
জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান
সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমবর্ধমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বিএনপি সংসদ সদস্য বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকদের মধ্যে শক্তিশালী জনগণের সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আসুন আমরা মানুষের মন জয় করি। ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে হৃদয়ের সম্পর্ক গড়ে তুলি। আমরা ভারতবিরোধী বা বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব চাই না। আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই।”
সীমান্ত ও মাদক কারখানা নিয়ে উদ্বেগ
তিনি ভারত সরকারকে সীমান্তে অভিযুক্ত পুশ-ইন বন্ধ করতে এবং সীমান্তের কাছে মাদক উৎপাদনকারী কারখানা বন্ধ করার আহ্বান জানান।



