বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সংসদে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে: হাসনাত আব্দুল্লাহর তীব্র সমালোচনা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বিএনপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। রোববার রাতে ফেসবুক লাইভে প্রায় ৫২ মিনিট ধরে তিনি তার বক্তব্য তুলে ধরেন, যেখানে তিনি সরকারের নীতিমালা ও কার্যক্রম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহারের অভিযোগ
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এখন বিএনপি মেজরিটি সংসদে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। সংসদের আইন কোনটা কি, সেটা সরকার যেভাবে চাইবে সেভাবেই হয়। বাংলাদেশ যে পথে হাঁটছে, তাতে বিএনপি আমাদের সুখকর বার্তা দিচ্ছে না।’ তিনি দাবি করেন যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকারকে স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করছে।
পুলিশ সংস্কার ও ঋণখেলাপি নিয়ে হতাশা
পুলিশ সংস্কার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে হাসনাত বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব সংসদে ওঠানোই হয়নি, যা একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ঋণখেলাপি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে সংসদে প্রশ্ন করার পর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু শীর্ষ ২০টি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়েছেন, যার মধ্যে নয়টিই এস আলমের প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, ‘তাদেরকে আবার ব্যাংকে ফেরত আনার জন্য আইন পাস করা হলো। এটি বাংলাদেশের জন্য কালো দিন।’
জুলাই আন্দোলন ও সরকারের চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘যারা আত্মত্যাগ করেছিল তারা রাষ্ট্রের স্ট্রাকচারাল রিফর্মের জন্য। কিন্তু রাষ্ট্রের কোনো স্ট্রাকচারাল রিফরমেশন হচ্ছে না। সংখ্যাগরিষ্ঠতা কখনোই ভালো কিছু নিয়ে আসেনি, আপনারা আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন।’ বিএনপি মন্ত্রীদের চাপের বিষয়ে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, বলেন, ‘আমার এলাকার বাজেট বন্ধ করে দেবেন, দিয়েন। আমার এলাকার উন্নয়ন বন্ধ করে দিতে চান, দেন। পুলিশ যেন আমাদেরকে সহায়তা না করে ফোন দিয়ে বলে দেবেন, দেন। দিন শেষে আমি এটা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের জনগণ আমাদের পক্ষে আছে।’
হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যেখানে তিনি সরকারের গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন। তার মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা কখনোই ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে না, যদি না তা জনগণের স্বার্থে কাজ করে।



