গরু চুরির মামলায় গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা ফিরোজ আহমেদকে বহিষ্কার
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মো. ফিরোজ আহমেদ গরু চুরির একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার স্থানীয় বিএনপি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেয়।
বহিষ্কারের কারণ ও প্রক্রিয়া
দলীয় সূত্রে জানা যায়, পুনট ইউনিয়ন বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি মো. ফিরোজ আহমেদ শনিবার গরু চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। এ ঘটনায় দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পুনট ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাপরিপন্থী কার্যকলাপ এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আনিছুর রহমান সরকার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু খায়রুল আলম স্বাক্ষর করেন।
দলীয় নির্দেশনা ও মামলার বিস্তারিত
পুনট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিছুর রহমান বলেন, বহিষ্কারের পাশাপাশি দলীয় নেতা-কর্মীদের ফিরোজ আহমেদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ নভেম্বর রাতে কালাই উপজেলার বেগুনগ্রাম এলাকার এক গৃহবধূর গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরি হয়। এর মধ্যে একটি গাভি চোরেরা শিবগঞ্জ উপজেলার একটি পরিত্যক্ত পাম্পে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখে। পরে গরুটি সোনাতলার ডাকুমারা হাটে ৬৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার পর তাঁদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানা যায়, বিক্রির টাকা তাঁরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন এবং ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ফিরোজ আহমেদকে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এ–সংক্রান্ত ভিডিও আলামতও জব্দ করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফিরোজ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।



