রাজউক পুনর্বাসন প্রকল্পে বৈশাখী মেলা আয়োজন বন্ধ, স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের অভিযোগ
রাজধানীর মেরুল বাড্ডার রাজউক পুনর্বাসন প্রকল্প ডিআইটি প্রজেক্ট মাঠে বৈশাখী মেলা আয়োজনে বাধার মুখে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একটি অংশ মেলার আয়োজন করলেও, অপর একটি পক্ষ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের নিয়ে মেলা আয়োজনে বাধা দিয়েছে। এই ঘটনায় মেলার প্রস্তুতি বন্ধ হয়ে গেছে এবং দোকানপাট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মেলা আয়োজনে বাধার কারণ ও অভিযোগ
মেলা আয়োজনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সৈকত আলী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি দাবি করেন, অনুমতি ছাড়া আবাসিক এলাকায় মেলা আয়োজন করা হচ্ছিল, তাই তাঁরা বাধা দিয়েছেন। তবে মেলার আয়োজক মুন্সী আতিকুর রহমান পারভেজ জানান, দক্ষিণ বারিধারা সোসাইটি বৈশাখী মেলা আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে এবং মাঠের মালিক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কাছেও অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে।
পারভেজ আরও অভিযোগ করেন, যুবদল নেতা সৈকত আলী এবং বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের বাড্ডা থানা শাখার সভাপতি আশরাফ উদ্দিন বাবর এনসিপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মেলা আয়োজনে বাধা দিয়েছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা মেলা আয়োজনের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার এম তানভীর আহমেদ বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষ মেলার অনুমতি দিলে সেখানে মেলা আয়োজনে কোনো বাধা নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, মেলা আয়োজন নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এক পক্ষ আয়োজন করতে চাইছে, অন্যপক্ষ তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
পুলিশের মতে, স্থানীয় এই বিরোধের কারণে মেলার আয়োজন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল, কিন্তু বাধার মুখে আজ রোববার দোকানপাট খুলে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকেরা।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেলা আয়োজন নিয়ে দুটি রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যা এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে বৈশাখী মেলার মতো সাংস্কৃতিক আয়োজন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা। ডিএনসিসি এবং ডিএমপির সমন্বিত উদ্যোগে মেলা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হলে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিরোধের অবসান না ঘটলে, ভবিষ্যতেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।



