ভোলার চরফ্যাশনে ভিজিএফ চাল বিতরণ নিয়ে হামলা: বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে প্যানেল চেয়ারম্যান মারধরের অভিযোগ
ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় জেলেদের জন্য ভিজিএফ (ভিজিডি) চাল বিতরণের তালিকা তৈরিকে কেন্দ্র করে এক উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগম ও তার স্বামী আবুল কালাম ফরাজীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় উভয়েই গুরুতর আহত হয়ে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে চরফ্যাশন উপজেলার ৯নং চর মানিকা ইউনিয়ন পরিষদে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে জেলেদের পূর্ণবাসনের জন্য উপজেলার মোট ২৪ হাজার দুইশত নিবন্ধিত জেলের জন্য ১ হাজার ৯৩৬ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চর মানিকা ইউনিয়ন পরিষদের ১২শত নিবন্ধিত জেলের জন্য বরাদ্দ হয় ৯৬ টন চাল, যার বিতরণের দায়িত্ব পান প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগম।
প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগম জানান, নিবন্ধিত জেলেদের তালিকা অনুযায়ী ভিজিএফ চাল বিতরণের প্রস্তুতির সময় স্থানীয় বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নিবন্ধিত প্রকৃত জেলেদের নাম বাদ দিয়ে মনগড়া কিছু নামের তালিকা নিয়ে আসেন। তিনি তার দেওয়া তালিকা অনুযায়ী ভিজিএফ চাল বিতরণের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। মিনারা বেগম বলেন, "তার দেওয়া তালিকার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানালে, মোস্তাফিজুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে দলবল নিয়ে আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় আমার স্বামী আবুল কালাম এগিয়ে আসলে তাকেও এলোপাথাড়ি মারধর করে।"
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও তদন্ত
খবর পেয়ে দক্ষিণ আইচা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগম ও তার স্বামী আবুল কালাম ফরাজীকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে পাঠায়। দক্ষিণ আইচা থানার সেকেন্ড অফিসার হুমায়ূন কবির জানান, "ভিজিএফ চাল বিতরণের তালিকা তৈরিকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মী ও প্যানেল চেয়ারম্যানের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, আহতদের হাসপাতালে পাঠায়।"
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান অবশ্য ভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি জানান, জেলেদের ভিজিএফ চাল বিতরণের তালিকায় অনিয়ম করায় স্থানীয় জেলেরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেছে। তবে পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই দাবি নিয়ে তদন্ত করছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এমাদুল হোসেন বলেন, "এঘটনায় উভয় পক্ষকে উপজেলায় ডাকা হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করছি এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভিজিএফ চাল বিতরণের প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে।
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ভোলা জেলার চরফ্যাশন এলাকায় সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।



