নবাবগঞ্জে বিএনপি নেতা ও শাশুড়িকে কুপিয়ে জখম: মামলা নিচ্ছে না থানা
ঢাকার নবাবগঞ্জে মাদ্রাসা ও ঈদগাহ কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম শিমুল (৪৭) ও তার শাশুড়ি রমেলা বেগম (৬০)-কে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে দূবৃত্তরা। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে নবাবগঞ্জ-সিংগাইর উপজেলার সীমান্তবর্তী দক্ষিণ জামসা গাজী চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন তিন রাস্তা মোড়ে এ হামলা ঘটে। আহতদের নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার বিবরণ ও অভিযোগ
আহত বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম শিমুল জানান, তিনি শনিবার সকালে দুধঘাটার বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে জামসা বাজারে যাচ্ছিলেন। শাশুড়ি রমেলা বেগমকে বাড়ি যেতে সাহায্য করতে তাকে সাথে নিয়েছিলেন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি আজিজ মাষ্টারকে দেখতে পান। জামসা বাজার যাওয়ার পথে দক্ষিণ জামসা গাজী চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে লোহার রড, চাপাতি ও হাতুড়ি নিয়ে ৮-১০ জন লোক আগে থেকে অবস্থান করছিল। শিমুল সেখানে পৌঁছামাত্র তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাস্তার তিনদিক থেকে এসে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে।
আজিজ মাষ্টারের ছেলে সিফাতের নেতৃত্বে তারা শিমুলের উপর হামলা চালায়। সিফাত শিমুলের মাথায় আঘাত করে তাকে গাড়ি থেকে ফেলে দেয়। পরে সিফাতসহ অন্যরা রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। এসময় শিমুলের শাশুড়ি রমেলা বেগম জামাইকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করে হামলাকারীরা। পাশের জমিতে কাজ করা শ্রমিকরা এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আহতদের নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
বিরোধের পটভূমি
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, দুধঘাটা-জামসা-সুকানিপাড়া মাদ্রাসা ও ঈদগাহ কমিটি নিয়ে স্থানীয় আজিজ মাষ্টার, ইউনুস সুকানি, হাতেম আলী ও শহীদুল্লাহ কাজীদের সঙ্গে শোল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শিমুলসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার স্থানীয় প্রশাসনসহ দু’পক্ষ মাঠে বসে আলোচনা করে। স্থানীয়দের সহায়তায় এক পর্যায়ে বিষয়টি ঈদুল আজহার পর মিমাংসার প্রস্তাবনায় ছিল। তবে এ সময় কাজী শহিদুল্লাহ বিএনপি নেতা শিমুলকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
অভিযুক্ত আজিজ মাষ্টার ও কাজী শহীদুল্লাহ দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। মারামারির বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না বলে তারা জানিয়েছেন।
বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া
খবর পেয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খন্দকারসহ নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। আবুল কালাম খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, "ঘটনাটি শুনার সঙ্গে সঙ্গে আমি হাসপাতালে ছুটে এসেছি। ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে আহতের পরিবারের পাশে সব সময় থাকবো। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনগতভাবে ছাড় দেয়া হবে না।"
আহতের পরিবারের অভিযোগ
আহতের স্ত্রী মৌসুমি আক্তার বলেন, "আমার স্বামীকে ওরা চিরতরে মেরে ফেলার জন্য এ হামলা চালিয়েছিলো। আমি এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের বিচার চাই।" তিনি অভিযোগ করেন, নবাবগঞ্জ থানার ওসি এ ঘটনায় মামলা নিচ্ছে না।
পুলিশের বক্তব্য
নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম খান জানান, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে এসেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে সরেজমিনে গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, "এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ মামলা করতে আসেনি। আসলে আমি আইনগতভাবে সকল সহযোগিতা করব।"
আহতের পরিচয়
আহত সাইফুল ইসলাম শিমুল নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মাষ্টারের ছেলে। তিনি শোল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।



