বিএনপি কার্যালয়ে কনকচাঁপার ওপর হট্টগোল, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে বাধা
সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি যখন মনোনয়ন ফরম নিতে যান, তখন একদল নারী নেত্রী তাকে বাধা দেন এবং ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
নারী নেত্রীদের তীব্র প্রতিবাদ ও স্লোগান
বেলা ১১টার কিছু পরে নেতাকর্মীদের নিয়ে মনোনয়ন ফরম নিতে যান কনকচাঁপা। এ সময় বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নির্বাহী সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি তার রাজনৈতিক অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা বিএনপির কে? সে কি দল করেছে? গত ১৭ বছর দলের পক্ষে আমরা মাঠে সক্রিয় ছিলাম। ঢাকা ও বগুড়ায় মিলে ১৭ বার জেলে গিয়েছি। কনকচাঁপা এতদিন কোথায় ছিলেন?"
জেরিন রনি আরও বলেন, "আমাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন? কনকচাঁপা কে? আমরা সুবিধাবাদীদের দেখতে চাই না। রাজপথে যারা লড়াই সংগ্রাম করেছে আমরা তাদের চাই। কনকচাঁপা কয়টা মামলা খেয়েছে? কয়টা লড়াই সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে?" এই সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং কনকচাঁপার মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেন।
কনকচাঁপার প্রতিক্রিয়া ও ফরম সংগ্রহ
হট্টগোলের মধ্যেও অন্য সহকর্মীদের সহযোগিতায় কনকচাঁপা মনোনয়ন ফরমটি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, "দলে দীর্ঘদিনের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। যারা তার অবদান নিয়ে কথা বলছেন, সেটা তাদের বিষয়। তবে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।"
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জনপ্রিয় এ কণ্ঠশিল্পী। এবারের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় তার অংশগ্রহণ নিয়ে দলীয় পর্যায়ে এই উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এই ঘটনাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে দীর্ঘদিনের কর্মীদের সঙ্গে নতুন বা জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। কনকচাঁপার মনোনয়ন প্রক্রিয়া এখনও চলমান, এবং দলীয় সিদ্ধান্ত কী হবে তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।



