রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি নেতার বাড়িতে সশস্ত্র হামলা: মা-ছেলে গুলিবিদ্ধ
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় এক বিএনপি নেতার বাড়িতে দুর্বৃত্তরা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গত রোববার রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় নেতা ওসমান গণি এবং তাঁর মা আছিয়া বেগম গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় তাঁর বাবা রশিদ আহমদও আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা চাপাতি ও বন্দুক নিয়ে বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ও হামলা চালায়।
আহত নেতার পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
আহত ওসমান গণি (৪২) রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পশ্চিম সরফভাটা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের মতে, ওসমান গণি সম্প্রতি একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এমন অবস্থায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে তারা দাবি করেছেন।
হামলাকারীরা তাঁর একটি হাতে ও পিঠে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পাশাপাশি, গুলিবিদ্ধ হন তাঁর ৭০ বছর বয়সী মা আছিয়া বেগম। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ওসমান গণির শরীরে একাধিক গুলি লেগেছে, যার মধ্যে পেটে লাগা গুলিটি বিশেষভাবে গুরুতর।
চিকিৎসা ও পুলিশের তদন্ত
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রথমে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ওসমানের মা ও বাবাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে ওসমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমদ ঘটনার পরপর পুলিশ সেখানে গিয়ে কাউকে না পেলেও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, "ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আমরা অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।"
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
এই হামলা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিএনপি নেতা কামাল হোসেনের মতে, এই ঘটনা রাজনৈতিক সহিংসতার একটি উদাহরণ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা উচিত। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জন্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা তিন থেকে চারজন ছিল এবং তারা রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। পরে তারা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এই ঘটনা চট্টগ্রাম বিভাগে রাজনৈতিক সহিংসতার একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।



