বিএনপির ১১ সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, নতুন নেতৃত্বের দাবিতে সরব পদপ্রত্যাশীরা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের মধ্যে ১০টির কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে একই কমিটি নেতৃত্ব দিচ্ছে, যার ফলে সংগঠনগুলোর মধ্যে দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন নেতৃত্ব গঠনের দাবিতে পদপ্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে লবিং শুরু করেছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
মেয়াদোত্তীর্ণ সংগঠনগুলোর অবস্থা
বিএনপির ৯টি অঙ্গসংগঠন হলো জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দল। এছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও শ্রমিক দল সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করে। তবে এসব সংগঠনের অধিকাংশেরই পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র নেই। প্রায় ৪৭ বছরেও ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র তৈরি হয়নি, ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোই দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে।
প্রধান সংগঠনগুলোর বর্তমান অবস্থান
বিএনপির প্রধান যুব অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের আংশিক কমিটি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আগে ঘোষণা করা হয়, কিন্তু দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান দুজনই সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, রাজীব আহসান বর্তমানে সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
মহিলা দলের কমিটি ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ঘোষণা করা হয়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৩ বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও ১০ বছর একই কমিটি দিয়ে চলছে। মুক্তিযোদ্ধা দলের সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে, তিন বছর পরপর নতুন কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও এক যুগের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। শ্রমিক দলের কমিটির মেয়াদ ২০১৬ সালে শেষ হলেও নতুন করে আর কোনো কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি।
মৎস্যজীবী দলের বিশেষ অবস্থা
মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠন করা হয়, কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাবের মৃত্যুর পর একই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির কমিটি বিলুপ্ত করে বিএনপি। এরপর আর কোনো কমিটি হয়নি। আবদুর রহিমের মতে, ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে এই দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম বেগবান করতে নতুন কমিটি গঠন সময়ের দাবি।
নতুন নেতৃত্বের দাবি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
নির্বাচনের পর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পদে যেতে আগ্রহীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। পদপ্রত্যাশীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিজেদের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা তুলে ধরছেন। নেতাকর্মীদের মতে, নির্ধারিত সময়ে নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথ সংকুচিত হচ্ছে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠন করা গেলে দল সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে এবং নির্বাচনে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।



