বিএনপির অঙ্গসংগঠনে নতুন কমিটি আসছে, পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ
বিএনপির অঙ্গসংগঠনে নতুন কমিটি আসছে

বিএনপির অঙ্গসংগঠনে নতুন কমিটি আসছে, পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। দলটির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে, যা দলের সাংগঠনিক ধারাবাহিকতায় বাধা সৃষ্টি করছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা

বিএনপির দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রতি তিন বছর পরপর নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কোনো কোনো অঙ্গ সংগঠনের কমিটির মেয়াদ ১০ বছর অতিক্রম করেছে, আবার কোনো কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। এতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পুনর্গঠনের আলোচনা ও সম্ভাব্য সময়সীমা

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন নিয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঈদুল ফিতরের পরপরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। ইতোমধ্যে বিএনপির হাইকমান্ড কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২৮ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার নির্দেশনা দেন। সূত্র বলছে, ঈদের পর এ লক্ষ্যে কাজ শুরু করার কথা বলেছেন তিনি।

অঙ্গসংগঠনগুলোর বর্তমান অবস্থা

বিএনপির ৯টি অঙ্গসংগঠন হলো:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • জাতীয়তাবাদী যুবদল
  • স্বেচ্ছাসেবক দল
  • মহিলা দল
  • কৃষক দল
  • তাঁতীদল
  • মৎস্যজীবী দল
  • মুক্তিযোদ্ধা দল
  • জাসাস
  • ওলামা দল

এছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও শ্রমিক দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন। তবে এসব সংগঠনের অধিকাংশেরই পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র নেই। প্রায় ৪৭ বছরেও ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র তৈরি হয়নি, ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোই দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে।

বিভিন্ন সংগঠনের কমিটির অবস্থা

জাতীয়তাবাদী যুবদল: ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আগে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

মহিলা দল: ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৩ বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও ১০ বছর একই কমিটি দিয়ে চলছে।

মুক্তিযোদ্ধা দল: ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত সভাপতি ও সাদেক খান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। তিন বছর পরপর নতুন কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও এক যুগের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল: ২০২৪ সালের মার্চে রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দিন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতে। সাম্প্রতিককালে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোয় সংগঠনের ভরাডুবি স্পষ্ট হওয়ায় পুনর্গঠনের দাবি উঠেছে।

পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা

নির্বাচনের পর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পদে যেতে আগ্রহীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। পদপ্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে লবিং শুরু করেছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অনেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিজেদের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথাও তুলে ধরছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালাচ্ছেন তারা।

নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন

নেতাকর্মীদের মতে, নির্ধারিত সময়ে নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় একদিকে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় অনেক পদবঞ্চিত কর্মী সংগঠন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। একই কমিটি দীর্ঘদিন থাকার ফলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও বাড়ছে।

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠন করা গেলে দল সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে এবং নির্বাচনে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।