ঢাবিতে বিএনপি নেতার ভিসি নিয়োগে মেধার প্রশ্নে তীব্র ক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলামের নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু এই নিয়োগে মেধার বদলে দলীয় বিবেচনার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তীব্র প্রতিক্রিয়া
ডা. মাহমুদা মিতু সোমবার তার ফেসবুক টাইমলাইনে একটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, 'কোটা না, মেধা?' স্লোগান দিয়ে প্রাণ দেওয়া জাতির বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হলেন, 'লাগারে লাগা ধান লাগা' স্লোগান দিয়ে। তিনি এটিকে ঘৃণ্য বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই নিয়োগে মেধার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও গুণগত মানের জন্য হুমকিস্বরূপ।
তরুণ প্রজন্মের অনুভূতি ও জুলাই রাজনীতির প্রসঙ্গ
এর আগের একটি পোস্টে ডা. মাহমুদা মিতু বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, 'এই অনুভূতি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের। যাদেরকে জুলাই রাজনীতি সচেতন করেছে। যারা বাংলাদেশকে আর পুরোনো বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিতে চায় না।' তিনি আরও যোগ করেন যে, এখনো জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে যুদ্ধ করে যেতে হচ্ছে, যা একটি লজ্জাজনক অবস্থা।
জীবনহানির আশঙ্কা ও সরকারের সমালোচনা
ডা. মিতু তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বেশি কথা বললে জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, 'জীবন ও দিতে হতে পারে বলা যায় না। বেশি বললে কে, কখন মেরে ফেলে।' তার মতে, সরকার জুলাইয়ের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত হলেও তারা সত্যিকারের জুলাইকে হৃদয়ে ধারণ করে না, বরং শুধুমাত্র চাপ এড়ানোর জন্য তা করে।
এই ঘটনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন তুলেছে। ডা. মাহমুদা মিতুর এই বক্তব্য শিক্ষা ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত করেছে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
