স্বাধীনতার পর এক মাসে এত সাফল্য দেখাতে পারেনি কোনো সরকার: রহমাতুল্লাহ
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ দাবি করেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো সরকার মাত্র এক মাসের মধ্যে বর্তমান সরকারের মতো এত বেশি সাফল্য ও অগ্রগতি প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়নি। তিনি সরকারের জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপগুলোর বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন।
ইফতার মাহফিলে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বরিশাল নগরীর গির্জা মহল্লা এলাকায় অবস্থিত এ.কে. স্কুল মাঠে রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের সম্মানে নিজ উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। রহমাতুল্লাহ বলেন, "দায়িত্ব গ্রহণের পর অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকার জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক কার্যকর ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে।"
সরকারের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগসমূহ
তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বিস্তারিত বর্ণনা দেন:
- খাল খনন কর্মসূচি: জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গৃহীত এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফলাফল দেখাতে শুরু করেছে।
- ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ: নিম্ন আয়ের মানুষদের সহায়তা প্রদানের জন্য চালু করা এই কার্যক্রমকে তিনি একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- কৃষি ঋণ প্রদান: কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা কৃষি খাতকে শক্তিশালী করছে।
- উন্নয়ন প্রকল্পের গতি বৃদ্ধি: বিভিন্ন মেগা প্রকল্প ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত করা হয়েছে।
- সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ: দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
রহমাতুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, "এসব উদ্যোগ শুধু কাগজে-কলমে নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবিক ও কার্যকর ভূমিকা রাখছে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া দ্রুততর হচ্ছে।"
উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের এই উন্নয়নধারা ও জনমুখী কার্যক্রম যদি অব্যাহত থাকে, তবে দেশ আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সফল হবে। তার মতে, সরকারের এই অগ্রগতি জাতীয় উন্নয়নের নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবায়দুল হক চান, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব নুরুল আমিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম রাড়ী, সদস্য সচিব আব্বাস উদ্দিন, বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য জাহিদুর রহমান রিপন, সদস্য শেখ হুমায়ুন কবির মাসুদ, জেলা শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল হক ফরাজী, মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ফয়েজ আহমেদ খান ও সদস্য সচিব মো: শহিদুল ইসলাম।
এছাড়াও নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের ১নং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তারিখ সুলাইমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন টিটু, স্বেচ্ছাসেবক দল বরিশাল মহানগরের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান পিন্টু, জাতীয়তাবাদী ওলামাদলের জেলার আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুর রব, গণঅধিকার পরিষদ মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন তালুকদার, এনসিপির জেলার আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা ও সদস্য সচিব আবু সাঈদ ফেরদৌস, সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুল কবির ফরহাদসহ মহানগর, জেলা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন পেশাজীবী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এই ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।
রহমাতুল্লাহর এই বক্তব্য বরিশালের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং সরকারের সম্প্রতি গৃহীত পদক্ষেপগুলোর প্রতি বিরোধী দলের এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
