লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি: বিএনপি নেতাকে জুতাপেটা ও এক লাখ টাকা জরিমানা
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা শুক্কুর মিঝিকে জুতাপেটা করে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে শালিসের মাধ্যমে মিমাংসা করা হলেও ভুক্তভোগী পরিবার এখনো নিরাপত্তাহীনতা ও হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ
রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে রায়পুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের দেবিপুর গ্রামের চালতাতুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী, যিনি স্থানীয় জনকল্যাণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তিনি ময়লা ফেলতে ঘর থেকে বের হলে বাড়ির গেটের সামনে থাকা শুক্কুর মিঝি পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে পাশের অটোরিকশা রাখার কক্ষে নিয়ে যান।
সেখানে যৌন হয়রানির চেষ্টা করা হলে কিশোরী চিৎকার দেন। এতে তার খালা ও নানি ঘটনাস্থলে এলে শুক্কুর মিঝি পালিয়ে যান। পরবর্তীতে কিশোরীর খালা রায়পুর থানায় শুক্কুর মিঝি ও তার জামাতা জালাল উদ্দিন রানার নামে এজাহার দেন। জালাল উদ্দিন রানা উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শালিস বৈঠক ও সিদ্ধান্ত
সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাত ১০টায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠুর চরমোহনা গ্রামের বাড়িতে এক শালিস বৈঠক বসে। রাত ১২টায় বৈঠক শেষ হয়, যেখানে উভয়পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে শুক্কুর মিঝিকে জুতাপেটা করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়ানো হয়। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নাজমুল ইসলাম মিঠু জানান, মেয়েটির মা নেই এবং পরিবারটি গরিব হওয়ায় তাদের অনুরোধে ঘটনাটি মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য
কিশোরীর খালা বলেন, "আমার পরিবার অভিযুক্ত শুক্কুর মিঝি ও তার জামাতার লোকজনের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় আছি। ৩-৪ জন সাংবাদিক ছাড়া আমাদের পক্ষে কেউ কথা বলছেন না। শুক্কুর মিঝির লোকজন সমঝোতার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন, তাই বাধ্য হয়ে শালিসে বসি। জরিমানার টাকা এখনো পাইনি।"
অভিযুক্তদের প্রতিক্রিয়া
জালাল উদ্দিন রানা দাবি করেন, "আমার শ্বশুরকে মিথ্যা অভিযোগে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী আমার স্ত্রীর বান্ধবী, তাই স্থানীয়ভাবে মিমাংসার কথা বলেছিলাম। আমার বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ মিথ্যা।"
পুলিশ ও আইনি অবস্থা
রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যায় শুক্কুর মিঝিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। তিনি আটক নন এবং অভিযোগকারী থানায় মামলা না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের প্রেক্ষাপটে বিচারবহির্ভূত শাস্তির বিষয়টি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশু অধিকার কর্মীরা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছেন, বিশেষ করে একটি সংবেদনশীল অপরাধের ক্ষেত্রে যেখানে ভুক্তভোগী একজন নাবালিকা স্কুলছাত্রী।
