সুনামগঞ্জে মিজান চৌধুরীর নির্বাচন ত্যাগের পুরস্কার: জেলা পরিষদ প্রশাসক নিযুক্তি
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১১:০১ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী। পরবর্তীতে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পুরস্কার হিসেবে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন।
রাজনৈতিক পটভূমি ও সিদ্ধান্ত
মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তার বাড়ি ছাতক উপজেলার হায়দরপুর গ্রামে। ছাত্রদল থেকে বিএনপির রাজনীতিতে হাতেখড়ি তার, এবং তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ৯০ হাজার ভোট পেয়ে চমক দেখিয়েছিলেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন, যা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে বেকায়দায় ফেলে।
দলীয় অনুরোধ ও পরিণতি
৯ জানুয়ারি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে গুলশান কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। মিজান চৌধুরী এই অনুরোধ মেনে নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, "দেশ ও দলের এই ক্রান্তিলগ্নে দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিয়েছি।"
তার সরে দাঁড়ানোর ফলে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বিপুল ভোটের ব্যবধানে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে জয়লাভ করেন। এখন, মিজান চৌধুরীকে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্লেষকরা তার নির্বাচন ত্যাগের পুরস্কার হিসেবে দেখছেন।
প্রতিক্রিয়া ও কৃতজ্ঞতা
এই নিয়োগে তার কর্মী-সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে সোশাল মিডিয়াসহ নানাভাবে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। মিজানুর রহমান চৌধুরী দলের চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনা সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং দলীয় আনুগত্যের গুরুত্বকে আরও তুলে ধরেছে।
