ঝিনাইদহে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ: নারী কর্মীদের সভায় বাধা, আটজন আহত
ঝিনাইদহে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে আটজন আহত

ঝিনাইদহে রাজনৈতিক সংঘর্ষ: নারী কর্মীদের সভায় বাধা, আটজন আহত

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর এলাকায় জামায়াত ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় কয়েকজনের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

গন্না ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের বর্ণনা অনুযায়ী, বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে মাধবপুরে জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা সেখানে এসে সভা বন্ধ করতে বলেন। জামায়াতের কর্মীরা প্রতিবাদ করতে এলে সংঘর্ষ বাধে। তিনি বলেন, "হামলায় জামায়াতের কর্মী তবিবার রহমান গুরুতর আহত হন। নারী কর্মীসহ আরও কয়েকজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।"

অন্যদিকে, সদর উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন দাবি করেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা আলোচনা সভায় সরকার ও বিএনপির নেতা–কর্মীদের কটাক্ষ করে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় তাঁরা প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, "এতে জামায়াতের কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করলে সংঘর্ষ বাধে। এতে বিএনপির অন্তত সাতজন কর্মী আহত হয়েছেন।"

আহতদের তালিকা

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন:

  • ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের কর্মী তবিবার রহমান (৪৪)
  • ছাত্রদলের কর্মী শিপন হোসেন (২৫)
  • শিমুল হোসেন (২৪)
  • বিএনপির কর্মী মো. হোসেন আলী (৫৫)
  • তরু মিয়া (৪৮)
  • শহিদুল ইসলাম (২৭)
  • আবদুর রহমান (৫০)
  • যুবদলের কর্মী আবু কালাম (৩৫)

সকল আহত ব্যক্তিকে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে তবিবার রহমানের ক্ষেত্রে গুরুতর আঘাতের চিকিৎসা চলছে।

পুলিশের পদক্ষেপ

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, সদর থানার মাধবপুর গ্রামে জামায়াত–বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি পুলিশ পাঠিয়েছেন। "এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি এবং তদন্ত চলছে," তিনি উল্লেখ করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ঘটনা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তারা শান্তি বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংঘর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনার একটি প্রতিফলন, যা নির্বাচনী মৌসুমে আরও বাড়তে পারে।