রাজশাহীতে ভিজিএফ চালের কার্ড নিয়ে দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতাদের হামলায় ইউপি চেয়ারম্যান আহত
ভিজিএফ কার্ড নিয়ে দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতাদের হামলায় ইউপি চেয়ারম্যান আহত

রাজশাহীতে ভিজিএফ চালের কার্ড নিয়ে দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতাদের হামলায় ইউপি চেয়ারম্যান আহত

রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় ভিজিএফ চালের কার্ড বণ্টন নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্বের ঘটনা ঘটেছে। নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আজাদ আলী সরদারকে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা মারধর করেছেন। এই হামলার ফলে চেয়ারম্যান গুরুতর আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

বুধবার (১১ মার্চ) বেলা দেড়টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার নওপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর নান্দিগ্রাম ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাওয়ার পথে শ্যামপুর গ্রামে সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম ও বিএনপি নেতা আফাজসহ কয়েকজন চেয়ারম্যানের পথ রোধ করেন।

তারা নিজেদের অনুসারীদের জন্য ২৪০টি ভিজিএফ কার্ড দাবি করেন। চেয়ারম্যান বিধি মোতাবেক কার্ড বণ্টনের কথা জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং দাপ্তরিক কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার জানান, হামলায় তার বুক, পিঠ ও পায়ে জখম হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি এক্স-রে করিয়েছেন এবং তার অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।

বিবাদী পক্ষের বক্তব্য

মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য ও শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম। তবে তার দাবি, কার্ড দেওয়ার বিনিময়ে চেয়ারম্যান পাঁচ হাজার টাকা চেয়েছিলেন, তাই তাকে মারধর করা হয়েছে। অন্যদিকে শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম জানিয়েছেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তালিকা করায় পছন্দ না হওয়ায় চেয়ারম্যানের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।

আহত চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার তার বিরুদ্ধে টাকা দাবির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তিনি আইন অনুযায়ী কার্ড বণ্টন করতে চেয়েছিলেন, যা কিছু নেতাদের অসন্তুষ্টির কারণ হয়েছে।

পুলিশ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, হামলার ঘটনায় চেয়ারম্যান একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্তে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ ছাড়া দুর্গাপুরের ইউএনও মাশতুরা আমিনা জানান, তিনি ঘটনাটি অবগত আছেন এবং চেয়ারম্যানকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভিজিএফ কার্ড বণ্টন নিয়ে এমন দ্বন্দ্ব অগ্রহণযোগ্য এবং এটি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে রয়েছে।

এই ঘটনা রাজশাহী অঞ্চলে ভিজিএফ কার্ড বণ্টন নিয়ে চলমান উত্তেজনা ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এরকম ঘটনা ভবিষ্যতে আরও সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে।