চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত জামায়াত নেতার ভাই, উত্তেজনা চলছে
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত জামায়াত নেতার ভাই

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত জামায়াত নেতার ভাই

চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে জামায়াত নেতা মফিজুর রহমানের বড় ভাই হাফিজুর রহমান নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। নিহত হাফিজুর রহমান একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তিনি জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

সংঘর্ষের পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও হাসাদাহ বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের সূত্রপাত হয়। এই বিরোধের জের ধরে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পার্শ্ববর্তী সুটিয়া গ্রামের জামায়াতকর্মী মাহদি হাসানকে তুলে নিয়ে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইফতারের পর সুটিয়া থেকে হাসাদাহ বাজারে আসার পথে হাসাদাহ মডেল ফাজিল মাদ্রাসার সামনে মাহদি হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিনের ওপর পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটে। এই খবর পেয়ে জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংঘর্ষের পরবর্তী অবস্থা

পরবর্তীতে বিএনপি ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে তাকে যশোর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় পাঠানো হয়।

জীবননগর পৌর জামায়াতের পৌর যুব বিভাগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি ও তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে চারজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এর মধ্যে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের বড় ভাই হাফিজুর রহমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে মারা যান।

উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সংঘর্ষের পর পুরো জীবননগর উপজেলাজুড়ে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। হাসাদাহ বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জীবননগর থানা পুলিশসহ সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে জীবননগর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে রোববার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। সংঘর্ষের খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে যান চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন।

বিবৃতি ও আইনগত ব্যবস্থা

জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, "পূর্ব শত্রুতার জেরে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের ভাই হাফিজুর রহমান নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"

অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু বলেন, "কাদের হামলায় জামায়াতকর্মী মারা গেছেন তা আমি এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নই। জানার ও বোঝার চেষ্টা করছি।"

এছাড়া আহত মফিজুর রহমানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত ও নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় রয়েছে।