নাটোরে চাঁদাবাজি ও সংঘর্ষের অভিযোগে যুবদলের চার নেতা বহিষ্কার
চাঁদাবাজি অভিযোগে যুবদলের চার নেতা বহিষ্কার

নাটোরে চাঁদাবাজি ও সংঘর্ষের অভিযোগে যুবদলের চার নেতা বহিষ্কার

নাটোর জেলায় চাঁদাবাজি ও সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের চার নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুর রহমান (রাজা)। তিনি সম্প্রতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনে এক ইজারাদারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

বহিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

গতকাল শুক্রবার রাতে নাটোর জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুর রহমান আনিস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি আজ সকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের হাতে পৌঁছায়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সংঘর্ষে লিপ্ত থাকা ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য বহিষ্কৃত নেতাদের পরিচয়

রাকিবুর রহমান ছাড়াও আরও তিন যুবদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন নাটোর সদর উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি (প্রস্তাবিত) আবদুল গফুর, নলডাঙ্গা উপজেলার পিঁপরুল ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. লিটন এবং একই ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক আরব আলী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নলডাঙ্গার পিঁপরুল ইউনিয়নে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদলের কয়েকজন নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে, যা এই বহিষ্কারের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

বহিষ্কার আদেশের বিস্তারিত

বহিষ্কার আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই চার নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা হলো। দলীয় বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত নেতাদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়ভার যুবদল গ্রহণ করবে না। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি, জেলা যুবদলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপকে দলের ভেতর শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনসম্মান রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পটভূমি

সম্প্রতি গুরুদাসপুর উপজেলা চত্বরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই এক ইজারাদারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান। এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। অন্যদিকে, নলডাঙ্গা উপজেলার পিঁপরুল ইউনিয়নে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদল নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে।

জেলা যুবদলের এই দ্রুত পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেক বিশ্লেষক এটিকে দলীয় শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের একটি ইতিবাচক চেষ্টা হিসেবে মূল্যায়ন করছেন, আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন যে, এমন ঘটনাগুলো কেন প্রথমেই প্রতিরোধ করা যায়নি। যাই হোক, এই বহিষ্কার স্থানীয় রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে রেকর্ড হয়ে থাকবে।