রাজশাহীতে দিনমজুর হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার, র‍্যাবের অভিযানে ধরা পড়লেন উকিল
দিনমজুর হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার, র‍্যাবের অভিযান

রাজশাহীতে দিনমজুর হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

রাজশাহী নগরে দিনমজুর গোলাম মোস্তফাকে গুলি করে হত্যার মামলায় বিএনপির স্থানীয় এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ধর্মহাটা পটিয়াকান্দি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার র‍্যাব-৫-এর অধিনায়কের কার্যালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই ব্যক্তির গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয়

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. উকিল (৫২)। তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং এর আগে যুবদলের নেতৃত্বে ছিলেন। গোলাম মোস্তফা হত্যা মামলায় তিনি ২ নম্বর আসামি হিসেবে চিহ্নিত। র‍্যাব জানায়, এ হত্যাকাণ্ডের পর ছায়া তদন্তের মাধ্যমে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-৫-এর একটি দল চারঘাট থানার ধর্মহাটা পটিয়াকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে উকিলকে গ্রেপ্তার করে।

জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে সোপর্দ

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উকিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে রাজশাহী মহানগরের মতিহার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মতিহার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে আজ শনিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, এবং আগামী দিনগুলোতে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সবাই সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন।

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি

১৪ ফেব্রুয়ারি নগরের ডাঁশমারী খোঁজাপুর এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন গোলাম মোস্তফা (৫০)। পরের দিন নিহত ব্যক্তির স্ত্রী নাদেরা বেগম ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. উকিল, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুল মোল্লা ও শিহাব ইসলামকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহার ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে গোলাম মোস্তফার ভাতিজা চঞ্চলকে কেন্দ্র করে একটি বিরোধের সূত্রপাত হয়। খোঁজাপুর মোড়ে একটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগে মামলা করে। মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও বিক্ষোভ

হত্যাকাণ্ডের পর গোলাম মোস্তফাকে দাফনের পর এলাকাবাসী মানববন্ধন করে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। ১৮ ফেব্রুয়ারি পরিবার ও স্থানীয় লোকজন বিনোদপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। এই ঘটনায় সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনেছে, তবে ন্যায়বিচারের দাবি এখনও জোরালোভাবে চলছে। র‍্যাবের এই সফল অভিযান আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং আশা করা যায় অন্যান্য আসামিরাও শিগগিরই ধরা পড়বেন।