নাটোরে যুবদল নেতার চাঁদা দাবির ঘটনায় দল থেকে বহিস্কার
নাটোরের গুরুদাসপুরে হাটের ইজারাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান রাজাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নাটোর জেলা যুবদল গতকাল (২৭ ফেব্রুয়ারি) এই বহিস্কারাদেশের বিষয়টি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে।
ঘটনার বিবরণ
জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে ইজারা শেষে, পরিষদের সামনে প্রকাশ্যে ওই চাঁদা দাবি ও হুমকির ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাকিবুর রহমান রাজা ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম তপুর দিকে হাত উঁচিয়ে তেড়ে আসেন এবং ৫ লাখ টাকা না দিলে তাকে হাত-পা ভেঙে মাটিতে শুইয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এ সময় গুরুদাসপুর থানার ওসি শফিকুজ্জামান সরকার ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর পরিচয়
রাকিবুর রহমান রাজা নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যদিকে, ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম তপু একই ইউনিয়নের মৎসজীবি দলের সাবেক সহসভাপতি। উভয়েই বিএনপির নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
বহিস্কারাদেশের বিস্তারিত
নাটোর জেলা যুবদলের বহিস্কারাদেশে বলা হয়- ‘নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকায় ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুর রহমান রাজাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিস্কার করা হলো। বহিস্কৃত নেতার কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল গ্রহণ করবে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। পাশাপাশি, নাটোর জেলা যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে যেন তারা তাদের সাথে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক বজায় না রাখার জন্য বলা হয়।’
পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গুরুদাসপুর থানার ওসি শফিকুজ্জামান সরকার জানান, উন্মুক্ত দরপত্র শেষে যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান রাজা উচ্চবাচ্য করেন। তবে ভুক্তভোগী ওবায়দুল তপু থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই ঘটনায় পুলিশের তদন্ত চলছে এবং আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
এই বহিস্কারাদেশের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নৈতিকতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এই ধরনের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
