ঝিনাইদহের কালিগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১০ জন আহত, পুলিশ সদস্যও আক্রান্ত
ঝিনাইদহে বিএনপির সংঘর্ষে ১০ আহত, তিন পুলিশ সদস্যও আঘাতপ্রাপ্ত

ঝিনাইদহের কালিগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে ১০ জন আহত, তিন পুলিশ সদস্যও আঘাতপ্রাপ্ত

ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে সংঘটিত এই ঘটনায় তিনজন পুলিশ সদস্যও আক্রান্ত হয়েছেন, যারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসার সময় হামলার শিকার হন।

কালিগঞ্জ থানার সামনে সংঘটিত হয় সংঘর্ষ

স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে কালিগঞ্জ থানার সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপির পরাজিত প্রার্থী রাশেদ খানের দলীয় কার্যালয়ে একটি আলোচনা সভা চলাকালীন দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সাক্ষীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আলোচনা সভার মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে, সংঘর্ষে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশ সদস্যদেরও আক্রমণ করে। এতে সহকারী উপ-পরিদর্শক জাহিদ হোসেন এবং কনস্টেবল পিকলু ও সেলিমসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। অন্যান্য আহত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান

সংঘর্ষে আহত সকলকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন, তবে ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জেলাল হোসেন জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান থানায় সাংবাদিকদের ব্রিফিং করছিলেন, ঠিক তখনই থানার সামনে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। তিনি বলেন, "পুলিশ যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে, তখন তারা আক্রান্ত হয়, যার ফলে ১০ জন আহতের মধ্যে তিন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।"

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ এই সংঘর্ষ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।