ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যসহ মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে কালীগঞ্জ থানার সামনে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে একটি বৈঠক চলাকালে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
আহতদের তালিকা ও ঘটনার বিবরণ
আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী উপপরিদর্শক জাহিদ হোসেন, কনস্টেবল পিপলু মিয়া এবং কনস্টেবল সেলিম রেজা। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খানের কার্যালয়ে মহারাজপুর ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। বৈঠকের একপর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার এক পর্যায়ে সংঘর্ষের এক পক্ষ সরাসরি থানার ভেতরে ঢুকে পড়ে। সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি অব্যাহত থাকে, যার ফলে কয়েকজন আহত হন। পুলিশ বাহিনী সংঘর্ষ থামাতে এগিয়ে এলে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেন গণ অধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা রাশেদ খান। নির্বাচনে ভোটের ফলাফলে তিনি তৃতীয় স্থান অধিকার করেন, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তালিব বিজয়ী হন। সংঘর্ষের বিষয়ে রাশেদ খান মন্তব্য করেন, সকালে দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন এবং কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই বিরোধের সৃষ্টি হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি নিশ্চিত নন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন ঘটনা সম্পর্কে বলেন, "দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালে দুই পক্ষ মারামারি শুরু করে রাস্তায় নেমে আসে এবং পরে থানার ভেতরে প্রবেশ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।" তিনি আরও জানান, আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঘটনার পর থেকে কালীগঞ্জ উপজেলা ও আশেপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্কতা অবলম্বন করছে। এই সংঘর্ষ রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও উত্তেজনার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
