ঝিনাইদহে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সংঘর্ষ: ১২ আহত, পুলিশ মোতায়েন
ঝিনাইদহে বিএনপি কোন্দলে সংঘর্ষ, ১২ আহত

ঝিনাইদহে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিল

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের জন্য ডাকা সমন্বয় সভা হিংসাত্মক সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খাঁনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ফলে চার পুলিশ সদস্যসহ অন্তত বারো জন আহত হয়েছেন। উত্তেজিত কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি থানা চত্বরে হামলা চালায়, যা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিরোধ সংঘর্ষের মূল কারণ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম এবং রামনগর কলেজের অধ্যক্ষ ও বিএনপি নেতা মোকলেচুর রহমান (পিন্টু মিয়া) ও মতি মিয়ার অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ মেটানোর উদ্দেশ্যেই সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সভা চলাকালে বিবদমান পক্ষের নেতাকর্মীরা বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন, যা দ্রুত চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে এক পক্ষের নেতাকর্মীরা প্রাণ বাঁচাতে কালীগঞ্জ থানা চত্বরে আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে ঢুকে লাঠিসোঁটা দিয়ে তাদের মারধর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ইটপাটকেল ও ধস্তাধস্তিতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন বিপুল হোসেন, পান্নু হোসেন, তুহিন ও ফজলুর রহমান। তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তবে অন্যান্য আহতদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও আইনানুগ ব্যবস্থা

ঘটনার পর কালীগঞ্জ পৌর শহর ও দলীয় কার্যালয়ের সামনে নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তবে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কালীগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, থানা চত্বরে ঢুকে হামলার চেষ্টা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সমন্বয় সভার উদ্যোক্তা রাশেদ খাঁন জানান, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটানোর উদ্দেশ্যেই সভার আয়োজন করা হয়েছিল, কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত এই হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনা রাজনৈতিক সহিংসতা ও দলীয় কোন্দলের ভয়াবহ রূপ তুলে ধরেছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।