বিএনপি নেতা জাইনুল আবেদীন ফারুকের স্ত্রী কানিজ ফাতেমার ইন্তেকাল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও দলীয় নেতা জাইনুল আবেদীন ফারুকের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ইন্তেকাল করেছেন। তিনি ৭৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, তিনি বুধবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
চিকিৎসা ও অসুস্থতার ইতিহাস
কানিজ ফাতেমা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়।
পরিবার ও সামাজিক কর্মকাণ্ড
কানিজ ফাতেমা তার স্বামী জাইনুল আবেদীন ফারুক এবং কন্যা তামান্না ফারুককে রেখে গেছেন। তিনি সামাজিক কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে নারী ও শিশু কল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তার মৃত্যুতে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
দাফন ও জানাজার ব্যবস্থা
কানিজ ফাতেমার নামাজে জানাজা ঢাকার নিকুঞ্জ-১ এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মরদেহ নোয়াখালীর পৈতৃক বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুরে তার বাসভবনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে।
বিএনপি নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কানিজ ফাতেমার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "কানিজ ফাতেমা ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবী এবং দলের একজন বিশ্বস্ত সদস্য। তার মৃত্যু দল ও দেশের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি।" অন্যান্য বিএনপি নেতারাও শোকবার্তা দিয়েছেন এবং এই দুঃসময়ে পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
কানিজ ফাতেমার মৃত্যু রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে একটি শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তার অবদান ও স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
