প্রতিহিংসার রাজনীতি বিশ্বাস করে না বিএনপি: ড. মঈন খান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।
মাজারে জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাজারে জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ড. মঈন খান। তিনি বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে।
তিনি আরও যোগ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই বিএনপি রাজনীতি করে যাচ্ছে।
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতা
ড. মঈন খান বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের ভোটে যে পরিবর্তন এসেছে, তা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতার অংশ। তিনি দাবি করেন, বিগত ১৭ বছর দেশে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত ছিল। জনগণের আন্দোলন ও ভোটের মাধ্যমে আবারও গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়েছে।
আইনের মাধ্যমে বিচারের ওপর জোর
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা কিংবা জুলাইয়ের সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট। আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষে নই। কেউ যদি অপরাধ করে থাকে, তার বিচার আইনের মাধ্যমে হবে। বিএনপি প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করে।
ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ চলছে
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন উল্লেখ করে ড. মঈন খান বলেন, বিএনপি সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনীতি করতে চায়। বাংলাদেশে একদলীয় শাসন বা জোরপূর্বক রাজনীতি চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি আমরা সমর্থন করি না।
তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই ক্ষমতার উৎস। তাই জনগণের ভোট ও মতামতের প্রতিফলন ঘটানোই তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় আমরা অতীতেও ভূমিকা রেখেছি, ভবিষ্যতেও রাখব।
উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য নেতৃবৃন্দ
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সর্দার শাখাওয়াত হোসেন বকুল, সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী। এই সমাবেশে বিএনপির গণতান্ত্রিক আদর্শ ও প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতির বার্তা স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়।
